
ব্যাখ্যা দিলেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব
অনলাইন ডেস্ক: প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের বক্তব্যে ব্যবহৃত ‘রিসেট বাটন’ শব্দ নিয়ে তুমুল আলোচনা হচ্ছে- সেই শব্দের একটি ব্যাখ্যা দিয়েছেন তার প্রেস সচিব শফিকুল আলম। তার ভাষ্য, ‘তরুণরা রিসেট বাটন চেপেছে’ বলে প্রধান উপদেষ্টা ‘নতুনভাবে শুরু করার’ কথা বুঝিয়েছেন, দেশের ‘ইতিহাসকে মুছে ফেলার’ কথা বোঝাননি।
জাতিসংঘ অধিবেশনে যোগ দিতে নিউইয়র্কে গিয়ে সেপ্টেম্বরের শেষে ভয়েস অব আমেরিকাকে (ভোয়া) একটি সাক্ষাৎকার দেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। সেখানেই রিসেট বাটনের প্রসঙ্গ আসে। ভোয়ার এক প্রশ্নের জবাবে ড. ইউনূস বলেন, প্রথম স্বীকার করতে হবে যে ছাত্ররা বলেছে, আমরা ‘রিসেট বাটন’ পুশ করেছি; এভরিথিং ইজ গন; অতীত নিশ্চিতভাবে চলে গেছে। এখন নতুন ভঙ্গিতে আমরা গড়ে তুলব। দেশের মানুষও তা চায়। সেই নতুন ভঙ্গিতে গড়ে তোলার জন্য আমাদের সংস্কার করতে হবে।’ সেই ‘রিসেট বাটন’ শব্দটি নিয়ে গত কয়েকদিন ধরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে চলছে তুমুল আলোচনা। ইউনূস বাংলাদেশের স্বাধীনতার ইতিহাস মুছে ফেলতে বা বদলে দিতে চাইছেন কিনা- সেই প্রশ্ন তুলে আওয়ামী লীগ সমর্থকরা তার পদত্যাগের দাবি তুলছেন। বিষয়টি নিয়ে গতকাল বৃহস্পতিবার একটি লিখিত ব্যাখ্যা দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম।
ব্যাখ্যায় বলা হয়, প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ইউনূস যখন রিসেট বাটন চাপার কথা বলেছেন, তিনি বোঝাতে চেয়েছেন দুর্নীতিগ্রস্ত রাজনীতি থেকে নতুনভাবে শুরু করার কথা, যা বাংলাদেশের সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানকে ধ্বংস করেছে, অর্থনীতিকে ধ্বংসের দুয়ারে ঠেলে দিয়েছে এবং কোটি কোটি মানুষের ভোটের অধিকার ও নাগরিক স্বাধীনতা হরণ করেছে। বাংলাদেশের গৌরবের ইতিহাসকে মুছে ফেলার কথা তিনি বোঝাননি।
ব্যাখ্যায় আরো বলা হয়, যখন আপনি রিসেট বাটন চাপবেন, তখন সফটওয়্যার আবার নতুন করে চালু হয়। সেটা হার্ডওয়্যারের কোনো পরিবর্তন করে না। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের হার্ডওয়্যার তৈরি হয়েছিল। ভয়েস অব আমেরিকাকে অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সাম্প্রতিক সাক্ষাৎকার নিয়ে কিছু মানুষ ভুল ব্যাখ্যা করছে।
প্রেস সচিবের বিবৃতিতে আরো বলা হয়, অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব নিতে গত ৮ আগস্ট ঢাকায় পৌঁছানোর পর মুহাম্মদ ইউনূস শাহজালাল বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের বলেছিলেন, ছাত্রদের নেতৃত্বে জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থান ছিল আমাদের দ্বিতীয় স্বাধীনতা। প্রথম স্বাধীনতা এসেছিল ১৯৭১ সালে গৌরবময় স্বাধীনতা যুদ্ধের মধ্য দিয়ে।১৯৭১ সলে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় ড. ইউনূসের ভূমিকাও তুলে ধরা হয়েছে তার প্রেস সচিবের বিবৃতিতে। সেখানে বলা হয়, অধ্যাপক ইউনূস (তখন) যুক্তরাষ্ট্রের মিডল টেনেসি স্টেট ইউনিভার্সিটির সহকারী অধ্যাপক ছিলেন। বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণার পরপরই তিনি সেখানে ‘বাংলাদেশ নাগরিক কমিটি’ গঠন করেন এবং যুক্তরাষ্ট্র সরকার যাতে বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দিতে রাজি হয়, সেজন্য যুক্তরাষ্ট্রব্যাপী প্রচার চালান। তিনি বাংলাদেশে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর চালানো গণহত্যা সম্পর্কে বিশ্বকে অবহিত করার জন্য বাংলাদেশ নিউজলেটারও প্রকাশ করেন।
প্রতিদিনের আলোচিত কন্ঠ: 















