
অনুসন্ধানী প্রতিবেদক আবু ফয়সাল:
দর্শনা কেরুর শ্রমিক ও কর্মচারী ইউনিয়ন নেতৃবৃন্দ আর শক্তিশালী সিন্ডিকেটের চোখরাঙ্গানী উপেক্ষা করে চিনি ও শিল্প কর্পোরেশনের একমাত্র লাভজনক প্রতিষ্ঠান ” দর্শনা কেরু এ্যান্ড কোম্পানি “কে দুর্নীতি মুক্ত করতে শুরু থেকেই কঠোর অবস্থানে রয়েছেন সদ্য যোগদানকারী ব্যবস্থাপনা পরিচালক রাব্বিক হাসান। যদিও তার এই কঠোর অবস্থান পছন্দ নয় দীর্ঘদিন যাবৎ কেরু এন্ড কোম্পানির ঘাড় ভেঙে রক্ত পান করা কতিপয় শ্রমিক নেতা ও কর্মকর্তাদের। শক্তিশালী এই সিন্ডিকেট মনে করেছিলো আর দশটা এমডির মতো রাব্বিক হাসানও গড্ডালিকায় গা ভাসাবেন, কিন্তু তা না হওয়ায় ভীষণ নাখোশ কেরুর অবৈধ সুবিধা ভোগকারী ও কান্ট্রি স্পিরিট, ফরেন লিকার চোরচক্রের মূল হোতারা।
চুয়াডাঙ্গার দর্শনার ঐতিহ্যবাহী ভারী শিল্পপ্রতিষ্ঠান কেরু অ্যান্ড কোম্পানি বিভিন্ন ব্রান্ডের ফরেন লিকার, (দেশি মদ ও ডিনেচার স্পিরিট) এ প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন মালামাল চুরি, গায়েব ও নানা অনিয়ম এখানে নতুন কিছু নয়। এ চুরির ধারাবাহিকতা চলে আসছে টানা প্রায় ৩০ বছর ধরে। আর এসব অনিয়ম ও চুরির বিরুদ্ধে পূর্বতন কর্তৃপক্ষ নামমাত্র তদন্ত কমিটি করে দোষীদের সাময়িক শাস্তি দিলেও স্থায়ি সমাধানে তাদের ভূমিকা আজও প্রশ্নবিদ্ধ। তাই কেরুতে চুরির সঠিক বিচার না হওয়ার ফলে কিছুদিন পর এই চোরচক্র আবার সেই কারবার করে বহাল তবিয়তে থেকে যায় কেরুর বেতনভূক্ত স্টাফ হিসেবে। আর এসব চুরি বিদ্যা থেকে ফায়দা লুটে নেওয়া শ্রমিক নেতা কতিপয় কর্মকর্তা বরাবরই তৈরিকৃত ঘোলা জলে মাছ শিকার করে বনে গেছেন শত-শত কোটি টাকার মালিক। আর এসব কালো টাকার বদৌলতে কেরুর অভ্যন্তরে গড়ে উঠেছে শক্তিশালী সিন্ডিকেট। যাদের কাছে পূর্বতন এমডিরাও ছিলেন অনেকটা নিরুপায় ও অসহায়। তবে এবারের প্রেক্ষাপট সম্পূর্ণ ভিন্ন। যোগদানের শুরু থেকে অন্যায় ও চুরিচামারীর বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে থাকা নবাগত এমডি রাব্বিক হাসান এফসিএমএ কে এই চোরচক্রের শক্তিশালী সিন্ডিকেট নিজেদের গোত্রভূক্ত করতে না পারায় ভীষণ নাখোশ। তবে এই সিন্ডিকেট হাল ছাড়ার পাত্র নয়। তাই এই সিন্ডিকেট এখন চোখরাঙানীতে কাজ হবেনা বুঝতে পেরে তারা গোপন তৈলবিদ্যার মিশনে ব্যস্ত হয়ে পড়েছে। এমডি রাব্বিক হাসানের দপ্তর থেকে বাংলো পর্যন্ত এই চোরচক্রের নেতারা তৈল মালিশের ড্রাম নিয়ে হাজির হচ্ছেন বলে গোপন সূত্রে প্রকাশ।
কেরুতে কোটি কোটি টাকার কান্ট্রি স্পিরিট, ফরেন লিকার ও অন্যান্য খাতে চুরি নতুন কিছু নয়। যা সদ্য বিতাড়িত শেখ হাসিনা সরকারের আমলে যা মাত্রা ছাড়িয়েছে বহুগুণ । তবে গণঅভ্যুত্থানের পর অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ক্ষমতায় আসার পরও থেমে নেই সেই সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম। তাই কেরুর যেসব শ্রমিক নেতা আগে প্রকাশ্যে চুয়াডাঙ্গা ২ আসন( দামুড়হুদা-জীবননগর) এর বিনা ভোটের এমপি হাজী আলী আজগার টগরের সাথে মিছিল মিটিং ও সমাবেশে নিজেদেরকে আওয়ামী লীগের সাচ্চা নেতা হিসেবে পরিচয় দিতে গর্ববোধ করতো তারা শ্রমিক ও কর্মচারী ইউনিয়নের গর্বিত নেতা হিসেবে এখনো রয়েছেন চালকের আসনে। এই সিন্ডিকেটের নেতাদের মসনদ নস্যাতে ছাত্র-জনতার হস্তক্ষেপ প্রয়োজন বলে মনে করেন সচেতন মহল।
এর আগে দর্শনা কেরুর অবসরপ্রাপ্ত মহা ব্যবস্থাপক ( প্রশাসন) শেখ শাহাবুদ্দিন কেরুর ১৯ টি পণ্যাগার( ওয়্যারহাউজ) ও ঢাকার মতিঝিল ও চট্টগ্রাম সেল সেন্টারের এজেন্টদের কাছ থেকে অবৈধ ভাবে প্রতিমাসে হাতিয়ে নিতেন কোটি কোটি টাকা। এসব অবৈধ টাকা থেকে শেখ শাহাবুদ্দিন দর্শনার স্থানীয় আওয়ামীলীগ নেতাদের ম্যানেজ করার পাশাপাশি বিভিন্ন ক্লাব ও সাংস্কৃতিক সংগঠনকে কিছু কিছু টাকা থোক বরাদ্দ দিয়ে কেরুর ফান্ড থেকে এসব টাকা দেওয়া হচ্ছে মর্মে অপপ্রচার চালাতো। তবে কেরুতে আদৌ এ ধরণের কোনো ফান্ডের অস্তিত্ব নেই।
এবং বর্তমান কেরুর নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন কর্মচারী অভিযোগ করে বলেন, বর্তমানে শেখ শাহাবুদ্দিনের তৈরি করা সেই গাছ থেকে এখন ফল পেড়ে খাচ্ছে কেরুর একজন জিএম পদপর্যাদার একজন কর্মকর্তা ও অপর একজন এসিস্ট্যান্ট ম্যানেজার পদধারী ব্যক্তি। তবে এই বিষয়টি সম্পর্কে এখনো কিচ্ছু জানেনা সদ্য যোগদানকারী এমডি রাব্বিক হাসান এফসিএমএ। তবে রাব্বিক হাসান যোগদানের শুরু থেকেই আতঙ্কে রয়েছেন কেরুর ৫ জিএম সহ এবং প্রত্যেক বিভাগীয় প্রধানগণ।
এদিকে প্রতিটি শারদীয় দুর্গাৎসবের ন্যায় এবারও আসন্ন দুর্গাপূজা উপলক্ষে কান্ট্রি স্পিরিট ( দেশি মদ) ও ফরেন লিকার( বিলাতী মদ) চুরির মূল হোতারা এখনো সক্রিয় অবস্থানে রয়েছে। বিভিন্ন এলাকার পূজা উৎযাপন পর্ষদের নেতা কর্মীদের কাছ থেকে নেওয়া হচ্ছে ফরেন লিকার সাপ্লাইয়ের গোপন অর্ডার, যা তাদের মোবাইল লিস্ট পরীক্ষা করলেই দিনের আলোর মতো পরিষ্কার হয়ে যাবে।
এদিকে ৩০ শে সেপ্টেম্বর ডিস্টিলারি বিভাগের এক ইলেকট্রিসিয়ানের যন্ত্র রাখা বাক্সে (টুল বক্স) মিলেছে ৬ বোতল ফরেন লিকার ও দুটি খালি বোতল। অবশ্য সাথেসাথে এমডি রাব্বিক হাসানের নির্দেশে চুরির তথ্য প্রাথমিকভাবে প্রমাণিত হওয়ায় আব্বাস উদ্দিনকে সাময়ীক বরখাস্ত করা হয়েছে। ইতোপূর্বেও চুক্তিভিত্তিক অনেক শ্রমিক এই ধরনের চুরির ঘটনা ঘটালেও কতিপয় শ্রমিক নেতা ও কতিপয় কর্মকর্তাদের নির্লজ্জ প্রশ্রয়ে সেসব ঘটনায় কেরুর ব্যবস্থাপনা পর্ষদ কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারেনি।।
চলতি বছরের জুন মাসেও ১৩ হাজার লিটার ডিএস স্পিরিট গায়েব হবার অভিযোগও এই ডিস্টিলারি বিভাগে উঠেছিল। সে সময় তদন্ত কমিটি গঠন করে কর্তৃপক্ষ। এছাড়া সর্বশেষ গত মে মাসে ১০৪ জন শ্রমিক-কর্মচারীর স্থায়ী নিয়োগ নিয়েও অর্থ লেনদেনসহ নানা অভিযোগ উঠে। যা নিয়ে সাবেক এমডি মোশাররফ হোসেন ও শ্রমিক-কর্মচারী ইউনিয়নের সভাপতি সবুজ, সাধারণ সম্পাদক মাসুদসহ ৭ জনের নামে মামলাও করেছেন এক ব্যক্তি। কিন্তু সরেজমিনে জানা যায়, সভাপতি সবুজ ও সেক্রেটারি মাসুদ সে সময় টিএ ডিএ নিয়ে ঢাকায় অবস্থান করছিলেন। তাই মামলার সত্যতা প্রমাণের দায়ভার আদালতের।
জানা যায়, রাষ্ট্রায়ত্ত চিনিকলগুলোর মধ্যে একমাত্র লাভজনক প্রতিষ্ঠান কেরু অ্যান্ড কোম্পানি (বাংলাদেশ) লিমিটেড। এটি একটি সমন্বিত কারখানা। এখানে চিনি, ভিনেগার, হ্যান্ড স্যানিটাইজার সহ বিভিন্ন ধরনের স্পিরিট ও দেশি-বিদেশি মদ উৎপাদন করা হয়।
কেরু অ্যান্ড কোম্পানি (বাংলাদেশ) লিমিটেড কারখানার মূল পণ্য চিনি হলেও কোম্পানিকে বাঁচিয়ে রেখেছে ডিস্টিলারি পণ্য মদ। সেই লাভের খাত কেটে মাঝেমধ্যেই চুরির ঘটনা ঘটে কেরু অ্যান্ড কোম্পানিতে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযানে চোরাই মদসহ একের পর এক গ্রেপ্তারের ঘটনা ঘটলেও কেরুর পূর্বের প্রশাসন চুরি ঠেকাতে অনেকটাই ছিলেন নির্বিকার।
সর্বশেষ গত ৩০ সেপ্টেম্বরও চুরির চেষ্টার সময় ধরা পড়ে ৬ বোতল ফরেন লিকার। তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অনেকেই বলছেন আসন্ন দুর্গাপূজা উপলক্ষেও বিপুল পরিমাণে মদ চুরির আশঙ্কা রয়েছে। কারণ হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় এই উৎসব ঘিরে কেরুর ফরেন লিকারের (বিলেতী মদের) চাহিদা থাকে তুঙ্গে।
সাম্প্রতিক সময়ে পুলিশ ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের অভিযানে এই কারাখানায় উৎপাদিত দেশি মদ ও বিলাতি মদসহ (ফরেন লিকার) একাধিক চালান ধরা পড়েছে। এমনকি বোতলভর্তি বিলাতি মদ, মদের বোতলের লেবেল ও খালি বোতল উদ্ধারের ঘটনাও ঘটেছে। গ্রেপ্তার হয়েছে কেরুর শ্রমিকও। শ্রমিক সংগঠনগুলোই মূলত বছরের পর বছর এ সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ করে বলেও অভিযোগ রয়েছে।
এছাড়া আওয়ামী লীগ সরকারের সময় স্থানীয় এমপি আলী আজগর টগর ও তার ভাই সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আলী মুনছুর বাবু নিজেই এ সিন্ডিকেটগুলোকে আশ্রয়-প্রশ্রয় দিয়ে বেপরোয়া করে তোলে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শ্রমিক বলেন, “কোম্পানি থেকে দেশের বিভিন্ন পণ্যাগারে দেশি মদ পরিবহনের সময় তা চুরি ও পাচারের অভিযোগে চালকসহ শ্রমিক গ্রেপ্তারের একাধিক ঘটনা যেমন আছে, তেমনি ডিস্টিলারি থেকে বিলাতি মদ চুরির ঘটনাও একেবারে কম নয়।”
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আরও কয়েকজন বলেন, “ডিস্টিলারি বিভাগের কর্মকর্তারা মিলে শ্রমিক ইউনিয়ন নেতাদের যোগসাজশে সুযোগ বুঝে শ্রমিকদের দিয়ে এই চুরির কাজটি সম্পন্ন করে। যেটা আওয়ামী লীগ সরকারের আমলেই হয়েছে সবচেয়ে বেশি।”
তারা আরও বলেন, “এ সমস্ত ঘটনায় ফরেন লিকার বিভাগের হিসাব বিভাগের এক কর্মকর্তা এখনো এ সমস্ত সিন্ডিকেট চালিয়ে যাচ্ছেন।
তবে “পুরো ডিস্টিলারি বিভাগ সিসিটিভি ক্যামেরা দ্বারা নিয়ন্ত্রিত” থাকা সত্বেও একের পর এক চুরির ঘটনায় দর্শনার সচেতন মহল বিস্মিত।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এর আগে গত ৩১ আগস্ট কেরুর প্রধান ফটক থেকে ১০০ লিটার দেশি মদসহ ট্রাকচালক সাইফুল ইসলাম ও তার দুজন সহকারীকে দর্শনা থানার পুলিশ গ্রেপ্তার করে। এছাড়া গত ১৫ জুলাই দর্শনা থানা পুলিশ রামনগর থেকে ৪০ লিটার দেশি মদসহ বাদল শেখ নামের এক মাদক ব্যবসায়ীকে আটক করে। গত ১৬ ফেব্রুয়ারি দর্শনা পৌর এলাকার আনোয়ারপুরে অভিযান চালিয়ে কেরুর তৈরি ৭৫০ মিলিলিটার পরিমাপের সাত বোতল বিলাতি মদসহ দুজনকে আটক করে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর। এছাড়া ২০২৩ সালের ২৩ অক্টোবর রাতে চুয়াডাঙ্গার লোকনাথপুরে ডিবির তল্লাশির মুখে পড়ে কেরুর একটি কাভার্ড ভ্যানে ১০ লিটার দেশি মদ পায় ডিবি। এই মদ ব্যারেল থেকে চুরি করা হয়েছিল বলেও সে সময় জানায় পুলিশ।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন জানান, চলতি বছরের ৯ ফেব্রুয়ারি চার বোতল বিলাতি মদসহ কেরুর পরিবহন বিভাগের চুক্তিভিত্তিক শ্রমিক রকি হোসেন নিরাপত্তাকর্মীদের হাতে ধরা পড়েন। সে যাত্রায় কিছুই হয়নি তার। এরপর গত ১৩ আগস্ট রাতে ডিস্টিলারির গুদামের ভেন্টিলেটর দিয়ে ১৩ নম্বর ভ্যাটে (মদ রক্ষণাগার) পাইপ লাগিয়ে দেশি মদ চুরির চেষ্টা করে নামমাত্র থানা পুলিশ করে তিনি তারপরও অদৃশ্য শক্তিতে পার পেয়ে যায়।
এই ব্যক্তি আরও বলেন, “গত ১৬ বছরে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে এরকম চুরির ঘটনার শেষ নেই। কিছু ঘটনা সামনে এসেছে, তাই সবাই জেনেছে। কিন্তু অধিকাংশ চুরির ঘটনাই থেকে গেছে লোকচক্ষুর অন্তরালে । আর এর পিছনে চুয়াডাঙ্গা-২ আসনের সাবেক সাংসদ সদস্য আলী আজগর টগর এবং তার ভাই সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আলী মুনছুর বাবুসহ আওয়ামী লীগের দলীয় লোকজনের মদদ থাকায় দিনের পর দিন রাষ্ট্রীয় সম্পদ তছরুপ করেছে এই সংঘবদ্ধ চোরচক্র।”
অনুসন্ধানে আরও জানা গেছে, কোম্পানি থেকে পণ্যাগারগুলোতে দেশি মদ পাঠানোর সময় ব্যারেলের মুখে যে নিরাপত্তা সিল লাগানো হয়, গাড়িতে পরিবহনের সময় চালক ও সহকারীরা সেটি খুলে মদ বের করে নেন। এরপর আগে থেকে সংগ্রহ করা সিল লাগিয়ে দেন। মদ চুরি বন্ধে পণ্যাগার থেকে ফেরা পরিবহন কোম্পানির পক্ষ থেকে এর আগে তল্লাশি চালানো এবং চোরাই মদ উদ্ধার করা হলেও নানামুখী চাপে তা বন্ধ হয়ে গেছে।

এ বিষয়ে দর্শনা কেরু অ্যান্ড কোম্পানির নবাগত ব্যবস্থাপনা পরিচালক রাব্বিক হাসান এফসিএমএ বলেন, বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্য শিল্প কর্পোরেশনের সম্মানিত কর্তৃপক্ষ আমার উপর আস্থা রেখে দর্শনা কেরু এ্যান্ড কোম্পানির মহা ব্যবস্থাপক পদে পদায়ন করে আমাকে যে সম্মানের আসনে বসিয়েছেন, আমি আমার জীবন দিয়ে হলেও সে সম্মান সমুন্নত রাখবো। পাশাপাশি কেরুর অভ্যন্তরীন সকল অন্যায়-অবিচার ও পাপাচার সমূলে উৎপাটন করে দর্শনা কেরু এ্যান্ড কোম্পানিকে দেশের সকল সরকারি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে শীর্ষতম স্থানে নিয়ে যাবো ইনশাআল্লাহ।
উল্লেখ্য, ১৯৩৮ সালে প্রতিষ্ঠিত কেরু অ্যান্ড কোম্পানি চিনি উৎপাদন ছাড়াও রয়েছে ডিস্টিলারি, কৃষি খামার, পরীক্ষামূলক খামার ও জৈব সার। আর এখানে ৯টি ব্র্যান্ডের বিদেশি মদ উৎপাদন করা হয়। সেগুলো হলো ইয়েলো লেবেল মল্টেড হুইস্কি, গোল্ড রিবন জিন, ফাইন ব্র্যান্ডি, ব্র্যান্ডি, ইম্পেরিয়াল হুইস্কি, অরেঞ্জ কুরাকাও, জরিনা ভদকা( কান্ট্রি স্পিরিট থেকে প্রস্তুতকৃত), রোসা রাম ও ওল্ড রাম।
এখানে গড়ে প্রতিদিন কান্ট্রি স্পিরিট উৎপাদন হয় ৭ হাজার লিটার। আর বিগত সরকারের আমলের হাজারো অসঙ্গতির মধ্যেও ২০২০-২১ মৌসুমে কেরু এ্যান্ড কোম্পানি লাভ করে ১৯৫ কোটি টাকা, ২০২২-২৩ অর্থবছরে লাভ করে প্রায় ৪০০ কোটি টাকা। ( চলবে)
প্রতিদিনের আলোচিত কন্ঠ: 















