০২:৪৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৭ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

লোকাল বাসের ড্রাইভার থেকে শত কোটি টাকার মালিক রাজ্জাক

নিজস্ব প্রতিবেদক:

রাজ্জাক। ১৫ বছর আগে ছিলেন লোকাল বাসের ড্রাইভার। অভাব অনটনের সংসারে কোন রকম দিন কাটাতেন তিনি। থাকার মত ছিল মাত্র একটি টিনের ঘর। এখন তিনি শত কোটি টাকার মালিক। তাও আবার পরিবহন খাতের চাঁদাবাজির টাকায়। রিয়েছে স্লপারকোচসহ বিলাসবহুল প্রায় শতাধিক গাড়ি।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলেছে, ২০০৯ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত ১৫ বছরে পরিবহন সেক্টরে চাঁদাবাজির কোটি কোটি টাকা নামে লুট করেছে রাজ্জাক গং। এক কথায় রাজ্জাক ছিলেন পরিবহন খাতের মাফিয়া ডন। চাঁদাবাজির ক্ষেত্রে বিশেষ ভূমিকায় ছিল রাজ্জাকের অনুসারীরা।
পরিবহন খাতে অন্যায়ভাবে চাঁদাবাজিকে বৈধতা দিয়েছিলেন রাজ্জাক গং। একসময়কার লোকাল বাসের ড্রাইভার ধীরে ধীরে হয়ে উঠেন পরিবহন নেতা। জানা গেছে, ২০০৯ সালে স্বৈরাচারী আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে এ পর্যন্ত ভিওআইপি পরিবহন থেকে রাজ্জাক ও তার বাহিনীর পকেটে ঢুকেছে শতকোটি টাকা।
বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতা কর্নেল ফারুক খান তার লোকজনের সাথে তোলা ছবিকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করতেন দৈনিক হাজিরার বাসচালক ড্রাইভার রাজ্জাক।
রাজনৈতিক বিভিন্ন প্রোগ্রামে গিয়ে আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দের সাথে তোলা হতো ছবি। সেটাকে ব্যবহার করতেন পরিবহনে চাঁদাবাজির ক্ষেত্রে। বেশিরভাগ পরিবহনের হেল্পার ও ড্রাইভার রাজনীতি সম্বন্ধে তেমন কিছু বুঝতো না।
তারই সুযোগ নিয়ে খুব সহজেই এই সাধারণ মানুষগুলোকে চাঁদা দিতে বাধ্য করতেন। চাঁদা দিতে কেউ অস্বীকার করলে তাদেরকে মারধর করা হতো।
যেসব ড্রাইভার মালিকরা চাঁদা দিত না তাদের বাস কোন রুটে চলতে দিতো না এই রাজ্জাক। রাজ্জাকের এসব অপকর্মের সহযোগিতা করতো বাবুল সিকদার,রিপন। এ বাহিনীর কাছে বছরের পর বছর জিম্মি পরিবহণ মালিকরা।
বিগত সময়ে বিএনপির নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিসহ অন্যান্য দাবিতে বৃহৎ আন্দোলনের সময় অন্যান্য পরিবহন বন্ধ থাকলেও রাজ্জাক ও রিপনের সাথে আওয়ামী লীগের সুসম্পর্ক থাকার কারণে আওয়ামী লীগের প্রভাব খাটিয়ে চালাতো ভিআইপি পরিবহন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যক্তি বলেন, হরতাল অবরোধ কোন কিছুই মানতো না ভিআইপি পরিবহন, সবসময়ই চালু থাকতো ভিআইপি পরিবহনের বেশিরভাগ বাস সার্ভিস।
পরিবহন শ্রমিকনেতা গণমাধ্যমকে বলেন, ‘সড়ক পরিবহণ আইনে রাস্তা থেকে চাঁদা উঠানোর কোনও বিধান নেই। এরপরও পরিবহন খাতে বেপরোয়া চাঁদাবাজির নেতৃত্বে যারা আছে তাদের কেও আইনের আওতায় আনতে হবে।
পরিবহন খাতে এসব চাঁদাবাজরা ক্ষমতা দেখিয়ে লাইসেন্স বিহীন চালক, ফিটনেস বিহীন গাড়ি সড়ক-মহাসড়কে সচল রাখতে পারে।
আরেক শ্রমিক নেতা বলেন, আ.লী নেতা কর্নেল ফারুক খানের সাথে তোলা ছবির অপব্যবহার করে পরিবহণে চাঁদাবাজির স্বর্গরাজ্য গড়ে তুলেছেন ড্রাইভার রাজ্জাক।
ভিওআইপি বাস থেকে ৫ ই আগস্ট এর আগ পর্যন্ত ১৮০০ টাকা নেয়া হতো, বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মাধ্যমে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হওয়ার পর কমেছে শুধু চাঁদাবাজির অংক যা এখনো চলমান। পরিবার পরিজন আত্মীয়স্বজনের নামে তারা বিপুল পরিমাণ অর্থ ও সম্পদ রয়েছে বলে গুঞ্জন শোনা যায়।
সাধারণ মানুষের চাওয়া দুর্নীতি দমন কমিশনের উচিত রাজ্জাকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া এবং বর্তমান অন্তর্বতীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টার কাছে আবেদন জানান অনতিবিলম্বে তদন্ত করে এসব অবৈধ সম্পত্তি জব্দ করে রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা দেয়ার।

জানতে চাইলে রাজ্জাকের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি প্রতিবেদকের পরিচয় জানার সঙ্গে সঙ্গে ফোনের সংযোগটি কেটে দেন। এরপর একাধিকবার ফোন করলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

ট্যাগ:
রিপোর্টার সম্পর্কে দেখুন

জনপ্রিয় খবর

লোকাল বাসের ড্রাইভার থেকে শত কোটি টাকার মালিক রাজ্জাক

প্রকাশের সময় : ০২:৩৮:৩০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১ অক্টোবর ২০২৪

নিজস্ব প্রতিবেদক:

রাজ্জাক। ১৫ বছর আগে ছিলেন লোকাল বাসের ড্রাইভার। অভাব অনটনের সংসারে কোন রকম দিন কাটাতেন তিনি। থাকার মত ছিল মাত্র একটি টিনের ঘর। এখন তিনি শত কোটি টাকার মালিক। তাও আবার পরিবহন খাতের চাঁদাবাজির টাকায়। রিয়েছে স্লপারকোচসহ বিলাসবহুল প্রায় শতাধিক গাড়ি।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলেছে, ২০০৯ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত ১৫ বছরে পরিবহন সেক্টরে চাঁদাবাজির কোটি কোটি টাকা নামে লুট করেছে রাজ্জাক গং। এক কথায় রাজ্জাক ছিলেন পরিবহন খাতের মাফিয়া ডন। চাঁদাবাজির ক্ষেত্রে বিশেষ ভূমিকায় ছিল রাজ্জাকের অনুসারীরা।
পরিবহন খাতে অন্যায়ভাবে চাঁদাবাজিকে বৈধতা দিয়েছিলেন রাজ্জাক গং। একসময়কার লোকাল বাসের ড্রাইভার ধীরে ধীরে হয়ে উঠেন পরিবহন নেতা। জানা গেছে, ২০০৯ সালে স্বৈরাচারী আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে এ পর্যন্ত ভিওআইপি পরিবহন থেকে রাজ্জাক ও তার বাহিনীর পকেটে ঢুকেছে শতকোটি টাকা।
বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতা কর্নেল ফারুক খান তার লোকজনের সাথে তোলা ছবিকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করতেন দৈনিক হাজিরার বাসচালক ড্রাইভার রাজ্জাক।
রাজনৈতিক বিভিন্ন প্রোগ্রামে গিয়ে আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দের সাথে তোলা হতো ছবি। সেটাকে ব্যবহার করতেন পরিবহনে চাঁদাবাজির ক্ষেত্রে। বেশিরভাগ পরিবহনের হেল্পার ও ড্রাইভার রাজনীতি সম্বন্ধে তেমন কিছু বুঝতো না।
তারই সুযোগ নিয়ে খুব সহজেই এই সাধারণ মানুষগুলোকে চাঁদা দিতে বাধ্য করতেন। চাঁদা দিতে কেউ অস্বীকার করলে তাদেরকে মারধর করা হতো।
যেসব ড্রাইভার মালিকরা চাঁদা দিত না তাদের বাস কোন রুটে চলতে দিতো না এই রাজ্জাক। রাজ্জাকের এসব অপকর্মের সহযোগিতা করতো বাবুল সিকদার,রিপন। এ বাহিনীর কাছে বছরের পর বছর জিম্মি পরিবহণ মালিকরা।
বিগত সময়ে বিএনপির নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিসহ অন্যান্য দাবিতে বৃহৎ আন্দোলনের সময় অন্যান্য পরিবহন বন্ধ থাকলেও রাজ্জাক ও রিপনের সাথে আওয়ামী লীগের সুসম্পর্ক থাকার কারণে আওয়ামী লীগের প্রভাব খাটিয়ে চালাতো ভিআইপি পরিবহন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যক্তি বলেন, হরতাল অবরোধ কোন কিছুই মানতো না ভিআইপি পরিবহন, সবসময়ই চালু থাকতো ভিআইপি পরিবহনের বেশিরভাগ বাস সার্ভিস।
পরিবহন শ্রমিকনেতা গণমাধ্যমকে বলেন, ‘সড়ক পরিবহণ আইনে রাস্তা থেকে চাঁদা উঠানোর কোনও বিধান নেই। এরপরও পরিবহন খাতে বেপরোয়া চাঁদাবাজির নেতৃত্বে যারা আছে তাদের কেও আইনের আওতায় আনতে হবে।
পরিবহন খাতে এসব চাঁদাবাজরা ক্ষমতা দেখিয়ে লাইসেন্স বিহীন চালক, ফিটনেস বিহীন গাড়ি সড়ক-মহাসড়কে সচল রাখতে পারে।
আরেক শ্রমিক নেতা বলেন, আ.লী নেতা কর্নেল ফারুক খানের সাথে তোলা ছবির অপব্যবহার করে পরিবহণে চাঁদাবাজির স্বর্গরাজ্য গড়ে তুলেছেন ড্রাইভার রাজ্জাক।
ভিওআইপি বাস থেকে ৫ ই আগস্ট এর আগ পর্যন্ত ১৮০০ টাকা নেয়া হতো, বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মাধ্যমে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হওয়ার পর কমেছে শুধু চাঁদাবাজির অংক যা এখনো চলমান। পরিবার পরিজন আত্মীয়স্বজনের নামে তারা বিপুল পরিমাণ অর্থ ও সম্পদ রয়েছে বলে গুঞ্জন শোনা যায়।
সাধারণ মানুষের চাওয়া দুর্নীতি দমন কমিশনের উচিত রাজ্জাকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া এবং বর্তমান অন্তর্বতীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টার কাছে আবেদন জানান অনতিবিলম্বে তদন্ত করে এসব অবৈধ সম্পত্তি জব্দ করে রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা দেয়ার।

জানতে চাইলে রাজ্জাকের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি প্রতিবেদকের পরিচয় জানার সঙ্গে সঙ্গে ফোনের সংযোগটি কেটে দেন। এরপর একাধিকবার ফোন করলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।