০৯:৪২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৪ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রাষ্ট্র সংস্কারে জামায়াতে ইসলামীর ১০ দফা প্রস্তাব

অনলাইন ডেস্ক: রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ সেক্টরে সংস্কার আনতে অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে ১০ দফা প্রস্তাব তুলে ধরেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। বিশেষ করে আইন ও বিচার, সংসদ, নির্বাচনব্যবস্থা, আইনশৃঙ্খলা, র‌্যাব, জনপ্রশাসন, শিক্ষা ও সংস্কৃতি সেক্টরে নানা সংস্কারের প্রস্তাব দেয় দলটি। গতকাল বুধবার গুলশানের হোটেল ওয়েস্টিনে সংবাদ সম্মেলনে জামায়াতের নায়েবে আমির সৈয়দ আবদুল্লাহ মো. তাহের দলের পক্ষ থেকে এসব প্রস্তাব তুলে ধরেন।

প্রস্তাবে বলা হয়েছে, রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে ক্ষমতার ভারসাম্য, একই ব্যক্তি পরপর দুই মেয়াদের বেশি প্রধানমন্ত্রী থাকতে না পারা, সংসদ নির্বাচনে আনুপাতিক প্রতিনিধিত্বমূলক ব্যবস্থা চালু, কেয়ারটেকার সরকারব্যবস্থা স্থায়ীভাবে অন্তর্ভুক্তি, ইভিএম ভোটিং ব্যবস্থা বাতিল, স্থানীয় সরকার নির্বাচন নির্দলীয়ভাবে সম্পন্ন করার ব্যবস্থা, সংসদের প্রধান বিরোধী দল থেকে একজন ডেপুটি স্পিকার মনোনীত ও মন্ত্রণালয়ভিত্তিক দুর্নীতি দমন কমিশন গঠন করতে হবে।

প্রস্তাবে আরও বলা হয়েছে, চাকরিতে আবেদনের বয়সসীমা আগামী ২ বছরের জন্য ৩৫ ও পরে স্থায়ীভাবে ৩৩ বছর এবং অবসরের বয়সসীমা ৬২ বছর নির্ধারণ করা, আওয়ামী সরকারের আমলে সরকারি চাকরিতে যারা প্রশ্নপত্র ফাঁস, দুর্নীতি, জালিয়াতি ও দলীয় বিবেচনায় চাকরি পেয়েছে তাদের নিয়োগ বাতিল করা এবং বিচারবহির্ভূত হত্যা বন্ধ করতে হবে।

সংবাদ সম্মেলনে জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেন, মূলত জামায়াতের সংস্কার প্রস্তাব ৪১ দফা। এখন সংক্ষেপে ১০ দফা প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এই মুহূর্তে অন্তর্বর্তী সরকারের জন্য যেগুলো প্রাধান্য দেওয়া দরকার, সেগুলো দেওয়া হয়েছে। নির্বাচিত সরকার দায়িত্বে এসে বাকিগুলো দেখবে।

শফিকুর রহমান বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার সব সংস্কার করে দিলে নির্বাচিত সরকার এসে কী করবে। আমরা নির্বাচিত সরকারকেও পরীক্ষা

করতে চাই। যখন বিরোধী দলে থাকি, আমাদের আওয়াজ হয় এক রকমের, আর সরকারে গিয়ে ১৮০ ডিগ্রি অ্যাঙ্গেলে ঘুরে যাই। এত বড় একটা পরিবর্তনের পর আমাদের মানসিকতার পরিবর্তন হয়েছে কিনা, সেটা আমরা দেখতে চাই।

জামায়াতের আমির বলেন, দেড় সহস্রাধিক প্রাণের বিনিময়ে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের মুখে শেখ হাসিনা ৫ আগস্ট পদত্যাগ করে দেশ ছাড়েন। ৮ আগস্ট শপথ নেয় অন্তর্বর্তী সরকার। এই সরকারের প্রধান দায়িত্ব স্বল্পতম সময়ের মধ্যে মৌলিক সংস্কার সম্পন্ন করে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আয়োজন এবং নির্বাচিত প্রতিনিধির হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর। নির্বাচনকে অবাধ, সুষ্ঠু ও অর্থবহ করতে নির্বাচন-সংশ্লিষ্ট কিছু প্রতিষ্ঠানের ব্যাপক সংস্কার প্রয়োজন। সংস্কার ছাড়া নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হতে পারে না।

১০ দফা প্রস্তাবে যা রয়েছে-

আইন ও বিচার : উচ্চ আদালতে বিচারপতি নিয়োগে সুষ্ঠু ও সুনির্দিষ্ট নীতিমালা প্রণয়ন, বিচার বিভাগ থেকে দ্বৈত শাসন দূর, বিচার বিভাগ নির্বাহী বিভাগ থেকে পৃথককরণের কার্যকর ব্যবস্থা, আইন মন্ত্রণালয় থেকে আলাদা করে সুপ্রিমকোর্টের অধীন পৃথক সচিবালয় প্রতিষ্ঠা করা। ন্যায়বিচার নিশ্চিতের স্বার্থে বিদ্যমান আইনগুলোর প্রয়োজনীয় সংশোধনী ও গণমানুষের মূল্যবোধের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ আইন প্রণয়ন, সাইবার নিরাপত্তা আইন-২০২৩ ও সব কালো আইন বাতিল করা। বিচারের দীর্ঘসূত্রতা কমাতে বিভাগীয় পর্যায়ে হাইকোর্ট বেঞ্চ প্রতিষ্ঠা, নি¤œ আদালতের যথাযথ স্বাধীনতা নিশ্চিতে পৃথক বিচার বিভাগীয় কমিশন গঠন, সব ফৌজদারি মামলা তদন্তে স্বাধীন তদন্ত কমিটি গঠন, দেওয়ানি মামলার জন্য সর্বোচ্চ ৫ বছর এবং ফৌজদারি মামলাগুলো সর্বোচ্চ তিন বছরের মধ্যে নিষ্পত্তির বিধান করা।

সংসদবিষয়ক সংস্কার : সংসদের প্রধান বিরোধী দল থেকে একজন ডেপুটি স্পিকার মনোনীত করা, সংসদীয় বিরোধীদলীয় নেতার নেতৃত্বে ছায়া মন্ত্রিসভা গঠনের প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা গ্রহণ এবং সংসদে বিরোধীদলীয় সদস্যদের পর্যাপ্ত সময় দেওয়া।

নির্বাচনব্যবস্থা সংস্কার : জাতীয় নির্বাচনে আনুপাতিক প্রতিনিধিত্বমূলক ব্যবস্থা (পিআর) চালু, সুষ্ঠু ও স্বচ্ছ নির্বাচন নিশ্চিতে কেয়ারটেকার সরকারব্যবস্থা সংবিধানে স্থায়ীভাবে সন্নিবেশ, নির্বাচনের স্বচ্ছতা নিশ্চিতে ইভিএম ভোটিং ব্যবস্থা বাতিল করা। সরকারি চাকরিজীবী চাকরি ছাড়ার কমপক্ষে তিন বছরের মধ্যে কোনো ধরনের নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারবেন না। স্থানীয় সরকার নির্বাচন নির্দলীয়ভাবে সম্পন্নের ব্যবস্থা, অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন নিশ্চিতে ২০০৮ সালে প্রবর্তিত রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন প্রথা বাতিল করা। নির্বাচন কমিশনারসহ অন্যান্য কমিশনার নিয়োগে প্রধানমন্ত্রী, বিরোধীদলীয় নেতা ও প্রধান বিচারপতির সমন্বয়ে সার্চ কমিটি গঠন, সংসদ নির্বাচন একাধিক দিনে করার ব্যবস্থা গ্রহণ। জাতীয় পরিচয়পত্র ব্যবস্থাপনা নির্বাচন কমিশনের অধীন আনা।

আইনশৃঙ্খলা সংস্কার : ১৮৬১ সালে ব্রিটিশ সরকার প্রণীত পুলিশ আইন পরিবর্তন এবং পুলিশের জন্য একটি পলিসি গাইডলাইন তৈরি, পুলিশ সদস্যদের নিয়োগ, বদলি, পদোন্নতি এবং চাকরিচ্যুতির জন্য স্বাধীন পুলিশ কমিশন গঠন, নিয়োগ, বদলি, পদোন্নতি এবং চাকরিচ্যুতির ক্ষেত্রে কোনো রাজনৈতিক-অরাজনৈতিক ব্যক্তির সুপারিশের সুযোগ বা হস্তক্ষেপ বন্ধ করা, পুলিশ ট্রেনিং ম্যানুয়ালের মধ্যে ধর্মীয় শিক্ষা ও নৈতিক অনুশাসন অন্তর্ভুক্ত করা। পুলিশের মধ্যে মারণাস্ত্রের ব্যবহার বাতিল করা, রিমান্ড চলাকালে জিজ্ঞাসাবাদে আসামিপক্ষের আইনজীবীর উপস্থিতি এবং মহিলা আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদের সময় অভিভাবকের উপস্থিতি নিশ্চিত করা, বিচার বিভাগীয় সদস্যদের দিয়ে পুলিশ ট্রাইব্যুনাল গঠনের বিধান, পুলিশের ডিউটি ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা উন্নত করা, ‘পুলিশ আইন’ পরিবর্তন, পরিবর্ধন ও পরিমার্জনের মাধ্যমে আধুনিকায়ন করা।

র‌্যাব ও অন্যান্য বিশেষায়িত বাহিনীর প্রতি আস্থা ফেরাতে প্রয়োজনীয় সংস্কার, গত সাড়ে ১৫ বছর যারা র‌্যাবে কাজ করেছেন, তাদের নিজ নিজ বাহিনীতে ফিরিয়ে আনা এবং তাদের পুনরায় র‌্যাবে নিয়োগ না দেওয়া, বিচারবহির্ভূত হত্যাকা- বন্ধ করা, র‌্যাবের সামগ্রিক কার্যক্রম মনিটরিংয়ে সেল গঠন, কোনো র‌্যাব সদস্য আইনবহির্ভূত কাজে জড়িত হলে সেল তার বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করবে। মিডিয়ার ক্ষেত্রে নীতিমালা ও অনুসরণ নিশ্চিত করা।

জনপ্রশাসন সংস্কার : জনবল নিয়োগ, বদলি, পদায়নে তদবির, সুপারিশ ও দলীয় আনুগত্যের পরিবর্তে যোগ্যতা, দক্ষতা ও সততাকে প্রাধান্য দিতে হবে, যেকোনো চাকরির নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি থেকে শুরু করে নিয়োগ পর্যন্ত সময়ক্ষেপণ না করে যৌক্তিক সময়ের মধ্যে সম্পন্ন করা। সরকারি চাকরিতে আবেদন বিনামূল্যে করা, চাকরিতে আবেদনের বয়সসীমা আগামী দুই বছরের জন্য ৩৫ ও পরে স্থায়ীভাবে ৩৩ এবং অবসরের সীমা ৬২ বছর নির্ধারণ করা, আবেদনে সব ক্ষেত্রে বয়সসীমার বৈষম্য নিরসন, সব সরকারি দপ্তরে দুর্নীতি রোধে বিশেষ ব্যবস্থা তৈরি করা, এ জন্য মনিটরিংয়ের ব্যবস্থা করা। চাকরিতে বিরাজমান আন্তক্যাডার বৈষম্য দূর করা। আওয়ামী সরকারের আমলে সরকারি চাকরিতে যারা প্রশ্ন ফাঁস, দুর্নীতি, জালিয়াতি ও দলীয় বিবেচনায় চাকরি পেয়েছেন, তাদের নিয়োগ বাতিল করা।

দুর্নীতি : দুর্নীতি দমন কমিশনে পরীক্ষিত সৎ, ন্যায়পরায়ণ, দক্ষ ও যোগ্য লোক নিয়োগ দেওয়া। রাষ্ট্রের সব সেক্টরে জবাবদিহি নিশ্চিত করা, দুদককে শক্তিশালী করে নিরপেক্ষভাবে কাজের স্বাধীনতা দেওয়া, দেশ থেকে পাচারকৃত অর্থ ফেরত আনার উপযুক্ত বিধান প্রণয়ন ও তা কার্যকরে পদক্ষেপ, মন্ত্রণালয়ভিত্তিক দুর্নীতি দমন কমিশন গঠন, দুর্নীতি দমন কমিশনের আইন সংস্কার, জনবল ও পরিধি বৃদ্ধি, রাষ্ট্রীয় ও জনগণের সম্পদ অবৈধভাবে ভোগ দখলকারীদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ গ্রহণে সুস্পষ্ট আইন প্রণয়ন করা।

সংবিধান সংস্কার : রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে ক্ষমতার ভারসাম্য রাখার বিধান সংযুক্ত করতে হবে। একই ব্যক্তি পরপর দুই মেয়াদের বেশি প্রধানমন্ত্রী থাকতে পারবেন না।

শিক্ষা ও সংস্কৃতি সংস্কার : ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত মাধ্যমিক এবং একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণিকে উচ্চমাধ্যমিক হিসেবে বলবৎ রাখা। অষ্টম শ্রেণির পাবলিক পরীক্ষা বাতিল করে পূর্বের পরীক্ষাপদ্ধতি ফিরিয়ে আনা। পাঠ্যপুস্তকে ২০২৪-এর গণ-অভ্যুত্থানের বস্তুনিষ্ঠ ইতিহাস গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরা। সব শ্রেণির পাঠ্যপুস্তকে ধর্মীয় মূল্যবোধবিরোধী উপাদান বাদ দেওয়া। নবী করিম (সা.)- এর জীবনীসহ মহামানবদের জীবনী-সংবলিত প্রবন্ধ সংযোজন করা এবং স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা। বিদ্যমান স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদ্রাসাগুলোকে সরকারিকরণ করা। প্রতিটি জেলায় কমপক্ষে একটি করে কামিল মাদ্রাসাকে সরকারিকরণ। কারিগরি ও ভোকেশনাল শিক্ষাকে সাধারণ শিক্ষার মূলধারায় যুক্ত করা। ‘ডিপার্টমেন্ট অব হায়ার এডুকেশন’ নামে একটি স্থায়ী শিক্ষা কমিশন গঠন করা। শিক্ষা সংস্কারে গঠিত শিক্ষা কমিশনের সব ধারা তথা সাধারণ, আলিয়া, কওমির প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করা।

জাতির ঐতিহাসিক আন্দোলন-সংগ্রাম ও মূল্যবোধের আলোকে বিভিন্ন ধরনের চলচ্চিত্র নির্মাণ করা। ঐতিহাসিক দিনগুলোকে স্মরণীয় করতে বিশেষ দিবস হিসেবে ঘোষণা করে রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় পালনের ব্যবস্থা করা। নাটক, সিনেমাসহ বিভিন্ন বিনোদনমূলক অনুষ্ঠান অশ্লীলতামুক্ত করা। কনটেন্টে বিভিন্ন ধর্ম, বিশেষ করে ইসলামকে হেয় করা থেকে বিরত থাকার বিধান প্রণয়ন। প্রাণীর মূর্তিনির্ভর ভাস্কর্য নির্মাণ না করে দেশীয় প্রকৃতি, ঐতিহ্যকে বিভিন্ন চিত্রাঙ্কন-ভাস্কর্যে তুলে আনা এবং গণমাধ্যমে শিক্ষামূলক কর্মসূচির প্রচার নিশ্চিত করা।

পররাষ্ট্রবিষয়ক সংস্কার : পররাষ্ট্রীয় সম্পর্কের ক্ষেত্রে সব গণতান্ত্রিক দেশের সঙ্গে সাম্য ও ন্যায্যতার ভিত্তিতে পারস্পরিক সম্পর্ক বজায় রাখা। জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় চীন, নেপাল, ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যকার আন্তর্জাতিক নদীগুলোর পানিবণ্টন চুক্তির উদ্যোগ নেওয়া। আসিয়ানভুক্ত দেশগুলোর সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক বৃদ্ধি। অন্যান্য রাষ্ট্রের সঙ্গে বিগত সরকারের আমলে সম্পাদিত সব চুক্তি রিভিউ করা। এ জন্য রিভিউ কমিশন গঠন। বাংলাদেশকে আসিয়ান জোটভুক্ত করার উদ্যোগ গ্রহণ। শক্তিশালী সার্ক পুনর্গঠনের উদ্যোগ গ্রহণ। কোনো দেশের সঙ্গে চুক্তি বা সমঝোতা চুক্তি হলে সংসদ অধিবেশনে উত্থাপন করে আলোচনার মাধ্যমে অনুমোদন করা।

ধর্ম মন্ত্রণালয় সংস্কার : ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশকে (ইফাবা) রাষ্ট্রের কল্যাণে অর্থবহ প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তোলা। ইমাম প্রশিক্ষণ একাডেমিকে স্বতন্ত্র সংস্থা বা দপ্তরে রূপান্তর করা। ইসলামিক মিশনকে সরাসরি মন্ত্রণালয়ের অধীন স্বতন্ত্র সংস্থা হিসেবে প্রতিষ্ঠা। হজ ব্যবস্থাপনার জন্য স্বতন্ত্র অধিদপ্তর প্রতিষ্ঠা। হজ ও ওমরার খরচ কমাতে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ। ইসলামিক ফাউন্ডেশনে একটি গবেষণা প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা। বিতর্কিত সব বই বাতিল ও প্রকাশনা বন্ধ করা। সব ধর্মাবলম্বীদের ধর্মীয় কার্যক্রম পরিচালনার অধিকার নিশ্চিত করা।

কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের সেক্রেটারি মতিউর রহমান আকন্দের পরিচালনায় সংবাদ সম্মেলনে আরও ছিলেন নায়েবে আমির অধ্যাপক মুজিবুর রহমান ও মাওলানা আ ন ম শামসুল ইসলাম, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা এটিএম মাছুম, মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান, হামিদুর রহমান আযাদ, অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের ও মাওলানা আবদুল হালিম, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য সাইফুল আলম খান মিলন ও মোবারক হোসাইন, ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের আমির নূরুল ইসলাম বুলবুল, উত্তরের আমির সেলিম উদ্দিন, ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি মঞ্জুরুল ইসলাম প্রমুখ।

ট্যাগ:
রিপোর্টার সম্পর্কে দেখুন

জনপ্রিয় খবর

রাষ্ট্র সংস্কারে জামায়াতে ইসলামীর ১০ দফা প্রস্তাব

প্রকাশের সময় : ০৯:১৯:২০ অপরাহ্ন, বুধবার, ৯ অক্টোবর ২০২৪

অনলাইন ডেস্ক: রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ সেক্টরে সংস্কার আনতে অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে ১০ দফা প্রস্তাব তুলে ধরেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। বিশেষ করে আইন ও বিচার, সংসদ, নির্বাচনব্যবস্থা, আইনশৃঙ্খলা, র‌্যাব, জনপ্রশাসন, শিক্ষা ও সংস্কৃতি সেক্টরে নানা সংস্কারের প্রস্তাব দেয় দলটি। গতকাল বুধবার গুলশানের হোটেল ওয়েস্টিনে সংবাদ সম্মেলনে জামায়াতের নায়েবে আমির সৈয়দ আবদুল্লাহ মো. তাহের দলের পক্ষ থেকে এসব প্রস্তাব তুলে ধরেন।

প্রস্তাবে বলা হয়েছে, রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে ক্ষমতার ভারসাম্য, একই ব্যক্তি পরপর দুই মেয়াদের বেশি প্রধানমন্ত্রী থাকতে না পারা, সংসদ নির্বাচনে আনুপাতিক প্রতিনিধিত্বমূলক ব্যবস্থা চালু, কেয়ারটেকার সরকারব্যবস্থা স্থায়ীভাবে অন্তর্ভুক্তি, ইভিএম ভোটিং ব্যবস্থা বাতিল, স্থানীয় সরকার নির্বাচন নির্দলীয়ভাবে সম্পন্ন করার ব্যবস্থা, সংসদের প্রধান বিরোধী দল থেকে একজন ডেপুটি স্পিকার মনোনীত ও মন্ত্রণালয়ভিত্তিক দুর্নীতি দমন কমিশন গঠন করতে হবে।

প্রস্তাবে আরও বলা হয়েছে, চাকরিতে আবেদনের বয়সসীমা আগামী ২ বছরের জন্য ৩৫ ও পরে স্থায়ীভাবে ৩৩ বছর এবং অবসরের বয়সসীমা ৬২ বছর নির্ধারণ করা, আওয়ামী সরকারের আমলে সরকারি চাকরিতে যারা প্রশ্নপত্র ফাঁস, দুর্নীতি, জালিয়াতি ও দলীয় বিবেচনায় চাকরি পেয়েছে তাদের নিয়োগ বাতিল করা এবং বিচারবহির্ভূত হত্যা বন্ধ করতে হবে।

সংবাদ সম্মেলনে জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেন, মূলত জামায়াতের সংস্কার প্রস্তাব ৪১ দফা। এখন সংক্ষেপে ১০ দফা প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এই মুহূর্তে অন্তর্বর্তী সরকারের জন্য যেগুলো প্রাধান্য দেওয়া দরকার, সেগুলো দেওয়া হয়েছে। নির্বাচিত সরকার দায়িত্বে এসে বাকিগুলো দেখবে।

শফিকুর রহমান বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার সব সংস্কার করে দিলে নির্বাচিত সরকার এসে কী করবে। আমরা নির্বাচিত সরকারকেও পরীক্ষা

করতে চাই। যখন বিরোধী দলে থাকি, আমাদের আওয়াজ হয় এক রকমের, আর সরকারে গিয়ে ১৮০ ডিগ্রি অ্যাঙ্গেলে ঘুরে যাই। এত বড় একটা পরিবর্তনের পর আমাদের মানসিকতার পরিবর্তন হয়েছে কিনা, সেটা আমরা দেখতে চাই।

জামায়াতের আমির বলেন, দেড় সহস্রাধিক প্রাণের বিনিময়ে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের মুখে শেখ হাসিনা ৫ আগস্ট পদত্যাগ করে দেশ ছাড়েন। ৮ আগস্ট শপথ নেয় অন্তর্বর্তী সরকার। এই সরকারের প্রধান দায়িত্ব স্বল্পতম সময়ের মধ্যে মৌলিক সংস্কার সম্পন্ন করে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আয়োজন এবং নির্বাচিত প্রতিনিধির হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর। নির্বাচনকে অবাধ, সুষ্ঠু ও অর্থবহ করতে নির্বাচন-সংশ্লিষ্ট কিছু প্রতিষ্ঠানের ব্যাপক সংস্কার প্রয়োজন। সংস্কার ছাড়া নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হতে পারে না।

১০ দফা প্রস্তাবে যা রয়েছে-

আইন ও বিচার : উচ্চ আদালতে বিচারপতি নিয়োগে সুষ্ঠু ও সুনির্দিষ্ট নীতিমালা প্রণয়ন, বিচার বিভাগ থেকে দ্বৈত শাসন দূর, বিচার বিভাগ নির্বাহী বিভাগ থেকে পৃথককরণের কার্যকর ব্যবস্থা, আইন মন্ত্রণালয় থেকে আলাদা করে সুপ্রিমকোর্টের অধীন পৃথক সচিবালয় প্রতিষ্ঠা করা। ন্যায়বিচার নিশ্চিতের স্বার্থে বিদ্যমান আইনগুলোর প্রয়োজনীয় সংশোধনী ও গণমানুষের মূল্যবোধের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ আইন প্রণয়ন, সাইবার নিরাপত্তা আইন-২০২৩ ও সব কালো আইন বাতিল করা। বিচারের দীর্ঘসূত্রতা কমাতে বিভাগীয় পর্যায়ে হাইকোর্ট বেঞ্চ প্রতিষ্ঠা, নি¤œ আদালতের যথাযথ স্বাধীনতা নিশ্চিতে পৃথক বিচার বিভাগীয় কমিশন গঠন, সব ফৌজদারি মামলা তদন্তে স্বাধীন তদন্ত কমিটি গঠন, দেওয়ানি মামলার জন্য সর্বোচ্চ ৫ বছর এবং ফৌজদারি মামলাগুলো সর্বোচ্চ তিন বছরের মধ্যে নিষ্পত্তির বিধান করা।

সংসদবিষয়ক সংস্কার : সংসদের প্রধান বিরোধী দল থেকে একজন ডেপুটি স্পিকার মনোনীত করা, সংসদীয় বিরোধীদলীয় নেতার নেতৃত্বে ছায়া মন্ত্রিসভা গঠনের প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা গ্রহণ এবং সংসদে বিরোধীদলীয় সদস্যদের পর্যাপ্ত সময় দেওয়া।

নির্বাচনব্যবস্থা সংস্কার : জাতীয় নির্বাচনে আনুপাতিক প্রতিনিধিত্বমূলক ব্যবস্থা (পিআর) চালু, সুষ্ঠু ও স্বচ্ছ নির্বাচন নিশ্চিতে কেয়ারটেকার সরকারব্যবস্থা সংবিধানে স্থায়ীভাবে সন্নিবেশ, নির্বাচনের স্বচ্ছতা নিশ্চিতে ইভিএম ভোটিং ব্যবস্থা বাতিল করা। সরকারি চাকরিজীবী চাকরি ছাড়ার কমপক্ষে তিন বছরের মধ্যে কোনো ধরনের নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারবেন না। স্থানীয় সরকার নির্বাচন নির্দলীয়ভাবে সম্পন্নের ব্যবস্থা, অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন নিশ্চিতে ২০০৮ সালে প্রবর্তিত রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন প্রথা বাতিল করা। নির্বাচন কমিশনারসহ অন্যান্য কমিশনার নিয়োগে প্রধানমন্ত্রী, বিরোধীদলীয় নেতা ও প্রধান বিচারপতির সমন্বয়ে সার্চ কমিটি গঠন, সংসদ নির্বাচন একাধিক দিনে করার ব্যবস্থা গ্রহণ। জাতীয় পরিচয়পত্র ব্যবস্থাপনা নির্বাচন কমিশনের অধীন আনা।

আইনশৃঙ্খলা সংস্কার : ১৮৬১ সালে ব্রিটিশ সরকার প্রণীত পুলিশ আইন পরিবর্তন এবং পুলিশের জন্য একটি পলিসি গাইডলাইন তৈরি, পুলিশ সদস্যদের নিয়োগ, বদলি, পদোন্নতি এবং চাকরিচ্যুতির জন্য স্বাধীন পুলিশ কমিশন গঠন, নিয়োগ, বদলি, পদোন্নতি এবং চাকরিচ্যুতির ক্ষেত্রে কোনো রাজনৈতিক-অরাজনৈতিক ব্যক্তির সুপারিশের সুযোগ বা হস্তক্ষেপ বন্ধ করা, পুলিশ ট্রেনিং ম্যানুয়ালের মধ্যে ধর্মীয় শিক্ষা ও নৈতিক অনুশাসন অন্তর্ভুক্ত করা। পুলিশের মধ্যে মারণাস্ত্রের ব্যবহার বাতিল করা, রিমান্ড চলাকালে জিজ্ঞাসাবাদে আসামিপক্ষের আইনজীবীর উপস্থিতি এবং মহিলা আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদের সময় অভিভাবকের উপস্থিতি নিশ্চিত করা, বিচার বিভাগীয় সদস্যদের দিয়ে পুলিশ ট্রাইব্যুনাল গঠনের বিধান, পুলিশের ডিউটি ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা উন্নত করা, ‘পুলিশ আইন’ পরিবর্তন, পরিবর্ধন ও পরিমার্জনের মাধ্যমে আধুনিকায়ন করা।

র‌্যাব ও অন্যান্য বিশেষায়িত বাহিনীর প্রতি আস্থা ফেরাতে প্রয়োজনীয় সংস্কার, গত সাড়ে ১৫ বছর যারা র‌্যাবে কাজ করেছেন, তাদের নিজ নিজ বাহিনীতে ফিরিয়ে আনা এবং তাদের পুনরায় র‌্যাবে নিয়োগ না দেওয়া, বিচারবহির্ভূত হত্যাকা- বন্ধ করা, র‌্যাবের সামগ্রিক কার্যক্রম মনিটরিংয়ে সেল গঠন, কোনো র‌্যাব সদস্য আইনবহির্ভূত কাজে জড়িত হলে সেল তার বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করবে। মিডিয়ার ক্ষেত্রে নীতিমালা ও অনুসরণ নিশ্চিত করা।

জনপ্রশাসন সংস্কার : জনবল নিয়োগ, বদলি, পদায়নে তদবির, সুপারিশ ও দলীয় আনুগত্যের পরিবর্তে যোগ্যতা, দক্ষতা ও সততাকে প্রাধান্য দিতে হবে, যেকোনো চাকরির নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি থেকে শুরু করে নিয়োগ পর্যন্ত সময়ক্ষেপণ না করে যৌক্তিক সময়ের মধ্যে সম্পন্ন করা। সরকারি চাকরিতে আবেদন বিনামূল্যে করা, চাকরিতে আবেদনের বয়সসীমা আগামী দুই বছরের জন্য ৩৫ ও পরে স্থায়ীভাবে ৩৩ এবং অবসরের সীমা ৬২ বছর নির্ধারণ করা, আবেদনে সব ক্ষেত্রে বয়সসীমার বৈষম্য নিরসন, সব সরকারি দপ্তরে দুর্নীতি রোধে বিশেষ ব্যবস্থা তৈরি করা, এ জন্য মনিটরিংয়ের ব্যবস্থা করা। চাকরিতে বিরাজমান আন্তক্যাডার বৈষম্য দূর করা। আওয়ামী সরকারের আমলে সরকারি চাকরিতে যারা প্রশ্ন ফাঁস, দুর্নীতি, জালিয়াতি ও দলীয় বিবেচনায় চাকরি পেয়েছেন, তাদের নিয়োগ বাতিল করা।

দুর্নীতি : দুর্নীতি দমন কমিশনে পরীক্ষিত সৎ, ন্যায়পরায়ণ, দক্ষ ও যোগ্য লোক নিয়োগ দেওয়া। রাষ্ট্রের সব সেক্টরে জবাবদিহি নিশ্চিত করা, দুদককে শক্তিশালী করে নিরপেক্ষভাবে কাজের স্বাধীনতা দেওয়া, দেশ থেকে পাচারকৃত অর্থ ফেরত আনার উপযুক্ত বিধান প্রণয়ন ও তা কার্যকরে পদক্ষেপ, মন্ত্রণালয়ভিত্তিক দুর্নীতি দমন কমিশন গঠন, দুর্নীতি দমন কমিশনের আইন সংস্কার, জনবল ও পরিধি বৃদ্ধি, রাষ্ট্রীয় ও জনগণের সম্পদ অবৈধভাবে ভোগ দখলকারীদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ গ্রহণে সুস্পষ্ট আইন প্রণয়ন করা।

সংবিধান সংস্কার : রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে ক্ষমতার ভারসাম্য রাখার বিধান সংযুক্ত করতে হবে। একই ব্যক্তি পরপর দুই মেয়াদের বেশি প্রধানমন্ত্রী থাকতে পারবেন না।

শিক্ষা ও সংস্কৃতি সংস্কার : ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত মাধ্যমিক এবং একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণিকে উচ্চমাধ্যমিক হিসেবে বলবৎ রাখা। অষ্টম শ্রেণির পাবলিক পরীক্ষা বাতিল করে পূর্বের পরীক্ষাপদ্ধতি ফিরিয়ে আনা। পাঠ্যপুস্তকে ২০২৪-এর গণ-অভ্যুত্থানের বস্তুনিষ্ঠ ইতিহাস গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরা। সব শ্রেণির পাঠ্যপুস্তকে ধর্মীয় মূল্যবোধবিরোধী উপাদান বাদ দেওয়া। নবী করিম (সা.)- এর জীবনীসহ মহামানবদের জীবনী-সংবলিত প্রবন্ধ সংযোজন করা এবং স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা। বিদ্যমান স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদ্রাসাগুলোকে সরকারিকরণ করা। প্রতিটি জেলায় কমপক্ষে একটি করে কামিল মাদ্রাসাকে সরকারিকরণ। কারিগরি ও ভোকেশনাল শিক্ষাকে সাধারণ শিক্ষার মূলধারায় যুক্ত করা। ‘ডিপার্টমেন্ট অব হায়ার এডুকেশন’ নামে একটি স্থায়ী শিক্ষা কমিশন গঠন করা। শিক্ষা সংস্কারে গঠিত শিক্ষা কমিশনের সব ধারা তথা সাধারণ, আলিয়া, কওমির প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করা।

জাতির ঐতিহাসিক আন্দোলন-সংগ্রাম ও মূল্যবোধের আলোকে বিভিন্ন ধরনের চলচ্চিত্র নির্মাণ করা। ঐতিহাসিক দিনগুলোকে স্মরণীয় করতে বিশেষ দিবস হিসেবে ঘোষণা করে রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় পালনের ব্যবস্থা করা। নাটক, সিনেমাসহ বিভিন্ন বিনোদনমূলক অনুষ্ঠান অশ্লীলতামুক্ত করা। কনটেন্টে বিভিন্ন ধর্ম, বিশেষ করে ইসলামকে হেয় করা থেকে বিরত থাকার বিধান প্রণয়ন। প্রাণীর মূর্তিনির্ভর ভাস্কর্য নির্মাণ না করে দেশীয় প্রকৃতি, ঐতিহ্যকে বিভিন্ন চিত্রাঙ্কন-ভাস্কর্যে তুলে আনা এবং গণমাধ্যমে শিক্ষামূলক কর্মসূচির প্রচার নিশ্চিত করা।

পররাষ্ট্রবিষয়ক সংস্কার : পররাষ্ট্রীয় সম্পর্কের ক্ষেত্রে সব গণতান্ত্রিক দেশের সঙ্গে সাম্য ও ন্যায্যতার ভিত্তিতে পারস্পরিক সম্পর্ক বজায় রাখা। জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় চীন, নেপাল, ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যকার আন্তর্জাতিক নদীগুলোর পানিবণ্টন চুক্তির উদ্যোগ নেওয়া। আসিয়ানভুক্ত দেশগুলোর সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক বৃদ্ধি। অন্যান্য রাষ্ট্রের সঙ্গে বিগত সরকারের আমলে সম্পাদিত সব চুক্তি রিভিউ করা। এ জন্য রিভিউ কমিশন গঠন। বাংলাদেশকে আসিয়ান জোটভুক্ত করার উদ্যোগ গ্রহণ। শক্তিশালী সার্ক পুনর্গঠনের উদ্যোগ গ্রহণ। কোনো দেশের সঙ্গে চুক্তি বা সমঝোতা চুক্তি হলে সংসদ অধিবেশনে উত্থাপন করে আলোচনার মাধ্যমে অনুমোদন করা।

ধর্ম মন্ত্রণালয় সংস্কার : ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশকে (ইফাবা) রাষ্ট্রের কল্যাণে অর্থবহ প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তোলা। ইমাম প্রশিক্ষণ একাডেমিকে স্বতন্ত্র সংস্থা বা দপ্তরে রূপান্তর করা। ইসলামিক মিশনকে সরাসরি মন্ত্রণালয়ের অধীন স্বতন্ত্র সংস্থা হিসেবে প্রতিষ্ঠা। হজ ব্যবস্থাপনার জন্য স্বতন্ত্র অধিদপ্তর প্রতিষ্ঠা। হজ ও ওমরার খরচ কমাতে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ। ইসলামিক ফাউন্ডেশনে একটি গবেষণা প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা। বিতর্কিত সব বই বাতিল ও প্রকাশনা বন্ধ করা। সব ধর্মাবলম্বীদের ধর্মীয় কার্যক্রম পরিচালনার অধিকার নিশ্চিত করা।

কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের সেক্রেটারি মতিউর রহমান আকন্দের পরিচালনায় সংবাদ সম্মেলনে আরও ছিলেন নায়েবে আমির অধ্যাপক মুজিবুর রহমান ও মাওলানা আ ন ম শামসুল ইসলাম, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা এটিএম মাছুম, মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান, হামিদুর রহমান আযাদ, অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের ও মাওলানা আবদুল হালিম, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য সাইফুল আলম খান মিলন ও মোবারক হোসাইন, ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের আমির নূরুল ইসলাম বুলবুল, উত্তরের আমির সেলিম উদ্দিন, ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি মঞ্জুরুল ইসলাম প্রমুখ।