০৫:৩৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের হারিয়ে যাওয়া”উল্কা-এক্সপ্রেস” – ঢাকা–চট্টগ্রাম..!!

তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের সবচেয়ে অত্যাধুনিক ও দ্রুতগতির ট্রেন ছিল উল্কা। ভারত উপ-মহাদেশের এক জরিপে দ্রুতগতির ১০ টি ট্রেনের তালিকায় স্থান করে নেয় উল্কা এক্সপ্রেস।১৯৭১ সালে বাংলাদেশ স্বাধীনতার পর পূর্ব পাকিস্তান রেলওয়ে নাম পরিবর্তন করে বাংলাদেশ রেলওয়ে রাখা হয় ।

তৎকালীন PER তথা পাকিস্তান পূর্ব রেলওয়ের অধীনে ১৯৬৬ সালের ১ জানুয়ারি তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের মূল শহর চট্টগ্রাম -ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটে চালু হয় উল্কা এক্সপ্রেস ট্রেন। উল্কার মুল দুটো রেকই সাজানো হয় ক্রিমসন পেইন্টেড কোচ তথা প্রচলিত লাল রংয়ের কোচের রেক দ্বারা। ক্রিমসন পেইন্টটি ছিলো আভিজাত্যের প্রতীক।

শুরুতে ট্রেনটি চট্টগ্রাম থেকে ছাড়তো সকাল ৭ টায় এবং ঢাকা পৌঁছাতো ১.২৫ মিনিটে । ঢাকা ছাড়তো সকাল ০৮.২০ মিনিটে , চট্টগ্রাম পৌছাতো ২.৫০ মিনিটে। তখনকার সময়ে এই রুটের সবচেয়ে দ্রুতগামী ট্রেন ছিল উল্কা এক্সপ্রেস । তবে ননস্টপ ট্রেন ছিল না এটি। একপথে তথা আপে সময় লাগতো ৬.২৫ ঘন্টা এবং অপর পথে সময় লাগতো ৬.৩০ ঘন্টা। তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের সবচেয়ে অত্যাধুনিক ও দ্রুতগতির ট্রেন ছিল উল্কা। ভারত উপ-মহাদেশের এক জরিপে দ্রুতগতির ১০ টি ট্রেনের তালিকায় স্থান করে নেয় উল্কা এক্সপ্রেস।শুরুর দিকে ট্রেনটি নারায়নগঞ্জ পর্যন্ত যেতো সম্ভবত। আখাউড়া-সিলেট কানেক্টিং এর ব্যবস্থা ছিল যতোদূর জানা যায়।

প্রথম পরিষেবা শুরু হয় পহেলা জানুয়ারি ১৯৬৬; ৫৬ বছর আগে; শেষ পরিষেবাঃ ১৯৮৬; ৩৬ বছর আগে।

ব্যবহৃত লাইন সমুহ১)নারায়ণগঞ্জ – বাহাদুরাবাদ ঘাট,২)টঙ্গী-ভৈরব-আখাউড়৩)আখাউড়া-লাকসাম-চট্টগ্রাম। পরিচালনায় পাকিস্তান ইস্টার্ন রেলওয়ে PER (১৯৬৬-১৯৭১), BR বাংলাদেশ রেলওয়ে (১৯৭১-১৯৮৬)। যাত্রাপথঃ শুরু ➤চট্টগ্রাম রেলওয়ে স্টেশন,
শেষ ➤ফুলবাড়িয়া রেলওয়ে স্টেশন (১৯৬৬-১৯৬৮), /কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন (১৯৬৮-১৯৮৬)। যাত্রা বিরতি হতো চট্টগ্রাম-লাকসাম-আখাউড়া-ভৈরব-টঙ্গী-ফুলবাড়িয়া/কমলাপুর।মোট ৬টি স্টেশন।

ভ্রমণ দূরত্ব ছিলো ৩৪৬ কিলোমিটার (২১৫ মাইল) (চট্টগ্রাম-কমলাপুর)।
যাত্রার গড় সময়ঃ ৬ ঘণ্টা ২৭ মিনিট ৩০ সেকেন্ড।
রোলিং স্টকঃ এই ট্রেনে ২০০০ অথবা ২২০০ শ্রেণীর লোকোমোটিভ ব্যবহার করা হতো। ট্রেনটি লাল মেইল ভ্যাকুয়াম ব্রেকের কোচের দুই রেকে চলাচল করতো।
১৯৮৬ সালে ঢাকা-চট্টগ্রাম-ঢাকা রুটে আন্তঃনগর মহানগর এক্সপ্রেসের উদ্বোধনের দিন থেকেই রেলের আভিজাত্যের প্রতীক এই উল্কা এক্সপ্রেস বন্ধ হয়ে যায়। উল্কা এক্সপ্রেস দুর্ঘটনা কবলে পরে ০১/০৮/১৯৭১ অথবা ২৮/০৮/১৯৭১: চট্টগ্রাম জেলার মীরসরাই ও মাস্তাননগর রেলওয়ে স্টেশনের মধ্যে অবস্থিত মহামায়া রেলসেতুতে মুক্তিযুদ্ধকালীন সময়ে গেরিলা অভিযান চালানো হয়।

উল্কা এক্সপ্রেস ট্রেন সেই ব্রীজ অতিক্রমকালীন সময়ে গেরিলা বাহিনী কর্তৃক বোমা বিস্ফোরণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ট্রেনের লোকোমোটিভ এবং চারটি কোচ খাদে পড়ে যায়। এই অভিযানে প্রায় ১০ জনের মতো পাকিস্তানি সেনা নিহত ও ৫ জন সেনা আহত হন। অনেক বাঙালীও এই বিস্ফোরণে নিহত হয়েছিন।

ট্যাগ:
রিপোর্টার সম্পর্কে দেখুন

জনপ্রিয় খবর

তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের হারিয়ে যাওয়া”উল্কা-এক্সপ্রেস” – ঢাকা–চট্টগ্রাম..!!

প্রকাশের সময় : ০৬:৫৮:২৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৪

তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের সবচেয়ে অত্যাধুনিক ও দ্রুতগতির ট্রেন ছিল উল্কা। ভারত উপ-মহাদেশের এক জরিপে দ্রুতগতির ১০ টি ট্রেনের তালিকায় স্থান করে নেয় উল্কা এক্সপ্রেস।১৯৭১ সালে বাংলাদেশ স্বাধীনতার পর পূর্ব পাকিস্তান রেলওয়ে নাম পরিবর্তন করে বাংলাদেশ রেলওয়ে রাখা হয় ।

তৎকালীন PER তথা পাকিস্তান পূর্ব রেলওয়ের অধীনে ১৯৬৬ সালের ১ জানুয়ারি তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের মূল শহর চট্টগ্রাম -ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটে চালু হয় উল্কা এক্সপ্রেস ট্রেন। উল্কার মুল দুটো রেকই সাজানো হয় ক্রিমসন পেইন্টেড কোচ তথা প্রচলিত লাল রংয়ের কোচের রেক দ্বারা। ক্রিমসন পেইন্টটি ছিলো আভিজাত্যের প্রতীক।

শুরুতে ট্রেনটি চট্টগ্রাম থেকে ছাড়তো সকাল ৭ টায় এবং ঢাকা পৌঁছাতো ১.২৫ মিনিটে । ঢাকা ছাড়তো সকাল ০৮.২০ মিনিটে , চট্টগ্রাম পৌছাতো ২.৫০ মিনিটে। তখনকার সময়ে এই রুটের সবচেয়ে দ্রুতগামী ট্রেন ছিল উল্কা এক্সপ্রেস । তবে ননস্টপ ট্রেন ছিল না এটি। একপথে তথা আপে সময় লাগতো ৬.২৫ ঘন্টা এবং অপর পথে সময় লাগতো ৬.৩০ ঘন্টা। তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের সবচেয়ে অত্যাধুনিক ও দ্রুতগতির ট্রেন ছিল উল্কা। ভারত উপ-মহাদেশের এক জরিপে দ্রুতগতির ১০ টি ট্রেনের তালিকায় স্থান করে নেয় উল্কা এক্সপ্রেস।শুরুর দিকে ট্রেনটি নারায়নগঞ্জ পর্যন্ত যেতো সম্ভবত। আখাউড়া-সিলেট কানেক্টিং এর ব্যবস্থা ছিল যতোদূর জানা যায়।

প্রথম পরিষেবা শুরু হয় পহেলা জানুয়ারি ১৯৬৬; ৫৬ বছর আগে; শেষ পরিষেবাঃ ১৯৮৬; ৩৬ বছর আগে।

ব্যবহৃত লাইন সমুহ১)নারায়ণগঞ্জ – বাহাদুরাবাদ ঘাট,২)টঙ্গী-ভৈরব-আখাউড়৩)আখাউড়া-লাকসাম-চট্টগ্রাম। পরিচালনায় পাকিস্তান ইস্টার্ন রেলওয়ে PER (১৯৬৬-১৯৭১), BR বাংলাদেশ রেলওয়ে (১৯৭১-১৯৮৬)। যাত্রাপথঃ শুরু ➤চট্টগ্রাম রেলওয়ে স্টেশন,
শেষ ➤ফুলবাড়িয়া রেলওয়ে স্টেশন (১৯৬৬-১৯৬৮), /কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন (১৯৬৮-১৯৮৬)। যাত্রা বিরতি হতো চট্টগ্রাম-লাকসাম-আখাউড়া-ভৈরব-টঙ্গী-ফুলবাড়িয়া/কমলাপুর।মোট ৬টি স্টেশন।

ভ্রমণ দূরত্ব ছিলো ৩৪৬ কিলোমিটার (২১৫ মাইল) (চট্টগ্রাম-কমলাপুর)।
যাত্রার গড় সময়ঃ ৬ ঘণ্টা ২৭ মিনিট ৩০ সেকেন্ড।
রোলিং স্টকঃ এই ট্রেনে ২০০০ অথবা ২২০০ শ্রেণীর লোকোমোটিভ ব্যবহার করা হতো। ট্রেনটি লাল মেইল ভ্যাকুয়াম ব্রেকের কোচের দুই রেকে চলাচল করতো।
১৯৮৬ সালে ঢাকা-চট্টগ্রাম-ঢাকা রুটে আন্তঃনগর মহানগর এক্সপ্রেসের উদ্বোধনের দিন থেকেই রেলের আভিজাত্যের প্রতীক এই উল্কা এক্সপ্রেস বন্ধ হয়ে যায়। উল্কা এক্সপ্রেস দুর্ঘটনা কবলে পরে ০১/০৮/১৯৭১ অথবা ২৮/০৮/১৯৭১: চট্টগ্রাম জেলার মীরসরাই ও মাস্তাননগর রেলওয়ে স্টেশনের মধ্যে অবস্থিত মহামায়া রেলসেতুতে মুক্তিযুদ্ধকালীন সময়ে গেরিলা অভিযান চালানো হয়।

উল্কা এক্সপ্রেস ট্রেন সেই ব্রীজ অতিক্রমকালীন সময়ে গেরিলা বাহিনী কর্তৃক বোমা বিস্ফোরণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ট্রেনের লোকোমোটিভ এবং চারটি কোচ খাদে পড়ে যায়। এই অভিযানে প্রায় ১০ জনের মতো পাকিস্তানি সেনা নিহত ও ৫ জন সেনা আহত হন। অনেক বাঙালীও এই বিস্ফোরণে নিহত হয়েছিন।