
লেখকঃ বজলুর রহমান, থানা পাড়া-দর্শনা-চুয়াডাঙ্গা::
রবার্ট রাসেল কেরু ১৮২০ সালের ১৮ই ডিসেম্বর উইলিয়াম মার্কাস কেরু এবং এলিজাবেথ (কিউ) কেরুর ঘর আলোকিত করে আয়ারল্যান্ডের কর্ক কাউন্টির স্কিবারীন শহরে জন্মগ্রহণ করেন। রাসেল কেরুরা ছিলেন ৫ ভাইবোন।
অন্যান্য ভাই-বোনদের নাম নিম্নরূপ:
১.ফিলিপা মারিয়া (কেরু) পোল।
২.এলিজা জেন (কেরু) মাস্টার।
৩.হেনরিয়েটা কেরু।
৪. একমাত্র ভাই যার নাম জর্জ পোল কেরু।
শেষের দুই ভাইবোন ভারতের মাদ্রাজে জন্মগ্রহণ করেন।রবার্ট রাসেল কেরুর বাবা উইলিয়াম মার্কাস কেরু জাহাজে চাকরি করতেন, ছিলেন পরিব্রাজক।
রবার্ট রাসেল কেরুর স্ত্রী জেসি কিং লেইড স্কটল্যান্ডের গ্লাসগোতে ১৮৩২ সালে জন্মগ্রহণ করেন।রাসেল কেরু ও জেসি কিং ১৮৫৫ সালে বিবাহ-বন্ধনে আবদ্ধ হন। এই দম্পতির ছিল ৬(ছয়) সন্তান।
১. তাদের প্রথম সন্তান রবার্ট মার্কাস কেরু স্কটল্যান্ডের এডিনবরাহ শহরে ১৮৫৬ সালে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ১৯২৬ সালে মৃত্যুবরণ করেন।
২.এরপর ১৮৫৭ সালে পরপর দুই মেয়ে স্কটল্যান্ডের গ্লাসগোতে জন্মগ্রহণ করেন। একজন জেসিকা ফিলিপা কেরু, যিনি মৃত্যুবরণ করেন ১৯২৮ সালে।
৩. অপর জন ক্যাথরিন জেন কেরু মৃত্যুবরণ করেন ১৯৩৪ সালে।
৪. আরেক মেয়ে ডোরা অ্যাগনেস কেরু ১৮৬০ সালে ভারতের কলকাতায় জন্মগ্রহণ করেন। তিনি মৃত্যুবরণ করেন ১৯৩৪ সালে।
৫.এরপর জর্জ অ্যালবার্ট লেইড কেরু ইংল্যান্ডের কিংস্টনে ১৮৬২ সালে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর মৃত্যু হয় ১৯৩৭ সালে।
৬.সবশেষে উইলিয়াম জন রাসেল কেরু ১৮৬৩ সালে ইংল্যান্ডের ওয়াটফোর্ডে জন্মগ্রহণ করেন। মাত্র এক বছর বয়সে ১৮৬৪ সালে তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
দ্বিতীয় সন্তান মেয়ে জেসিকার স্বামী ফ্রান্সিস স্টোনোর ৪র্থ ব্যারন ক্যামোস। রানি ভিক্টোরিয়ার সময়কালে, তিনি এবং তাঁর পরিবারের অনেক সদস্য ব্রিটিশ রাজপরিবারের প্রশাসনিক সদর দপ্তরের সাথে চাকুরী সূত্রে ওতোপ্রোত ভাবে কয়েক পুরুষ ধরে জড়িত ছিলেন।
তাঁদের ছিল ৩ ছেলে।
১. তাঁরা হচ্ছেন হুগো রবার্ট উইলিয়াম স্টোনোর।
২. এডওয়ার্ড মরিস স্টোনোর।
৩.হাওয়ার্ড কেরু স্টোনোর।
জেসিকার ছিল দুই নাতনি। তাঁরা হচ্ছেন মার্জোরি স্টোনোর এবং বেটি জয়েস স্টোনোর।
রবার্ট রাসেল কেরুর অন্যান্য ছেলেমেয়েদের পরবর্তী বংশধর সম্পর্কে খুব বেশি কিছু জানা জায়নি।
মদ বিষয়ক ইতিহাস-উপাত্তের ডেটাবেজ মোতাবেক রবার্ট রাসেল কেরু ১৮৫৭ সালের সিপাহী বিপ্লবের পর ব্রিটিশ আর্মির সহযোগিতায় বর্ধমানের আসানসোলে এবং মধ্যপ্রদেশের কাটনিতে দুটি চোলাই কারখানা স্থাপন করেন। চাহিদা বেড়ে যাওয়ার কারণে এবং লভ্যাংশের কথা চিন্তা করে পরবর্তীতে ১৮৮৭ সালে দর্শনায় পূর্ববঙ্গের প্রথম আধুনিক ভাটিখানা প্রতিষ্ঠা করেন।
এই ভাটিখানা গুলি এই তিন জায়গায় স্থাপনের পিছনে উল্লেখযোগ্য যে কারণগুলো ছিল তারমধ্যে প্রথমত ও প্রধানত রেলওয়ে যোগাযোগ ব্যবস্থার সুবিধা, দ্বিতীয়ত নিরিবিলি ও নিরাপদ স্থান। আলকোহল উৎপাদন এবং বিক্রয় ব্যবস্থাপনার জন্য এই দুই কারণ ছিল তখনকার দিনে অতি প্রয়োজন।

উল্লেখ্য দর্শনা ভাটিখানা প্রতিষ্ঠার মাত্র কয়েক বছরের মধ্যে ১৮৯৩ সালে দক্ষিণ ইংল্যান্ডের উপকূলবর্তী টরকি’তে অসুস্থ অবস্থায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন। তার মৃত্যুর পর কোম্পানীর ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব গ্রহণ করেন মি. নিকলসন।
এখানে উল্লেখ্য যে তার একমাত্র ভাই জর্জ পোল কেরু ১৮৫৭ সালের সিপাহী বিপ্লবে মৃত্যুবরণ করেন। তিনি ছিলেন কোম্পানির একাউন্টস ডিপার্টমেন্টের হেড।রবার্ট রাসেল কেরুর কোন সন্তান তাঁর ব্যবসার সাথে জড়িত ছিলেন না। কেন ছিলেন না সে বিষয়ে বিস্তারিত জানা যায় নি।
পরবর্তীতে লায়ল মার্শাল অ্যান্ড কোম্পানী’কে কেরু অ্যান্ড কোম্পানির ম্যানেজিং এজেন্ট নিযুক্ত করা হয়। কলকাতা হাইকোর্টের ১৯৩৮ সালের একটি মামলার নথি হতে প্রতীয়মান হয় ১৯২৯ সালে কোম্পানিটি চোলাইজাত মদ ও চিনি উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে কাজ করছিলো।
ওই নথিতে আরো উল্লেখ আছে আধুনিক চিনি উৎপাদন প্রক্রিয়া প্রতিষ্ঠার জন্য ১৯৩৬ সালে কোম্পানির পরিশোধিত মূলধন ৩০ লক্ষ টাকা হতে ৪৪ লক্ষ টাকায় বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত হয়।
এরই সূত্র ধরে ধারণা করা যায় দর্শনায় কেরু অ্যান্ড কোম্পানির আধুনিক চিনি উৎপাদন ইউনিটটি ১৯৩৬ হতে ১৯৩৮ সালের মধ্যে প্রতিষ্ঠিত হয় যার প্রাচীন ক্ষুদ্র ইউনিটটি সম্ভবতঃ পূর্ব প্রতিষ্ঠিত চোলাই কারখানার সাথে যুক্ত হয়ে থাকবে।।
—————-চলবে।।
প্রতিদিনের আলোচিত কন্ঠ: 










