০৫:৩৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বিডিআর হত্যাকাণ্ডের পুনঃতদন্তের উদ্যোগ

পুনঃতদন্ত হতেই হবে, দ্রুত তদন্ত টিম গঠন করা হবে :স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা



অনলাইন ডেস্ক: অবশেষে দেশের বহুল আলোচিত বিডিআর হত্যাকাণ্ডের পুনঃতদন্তের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ জন্য দ্রুত তদন্ত টিম গঠন করতে যাচ্ছে। এরপরই পুনঃতদন্ত শুরু হবে। গতকাল সোমবার রাজধানীর পিলখানাস্থ বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সদর দপ্তর পরিদর্শন শেষে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে এমনটাই বলেছেন।

স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, বিডিআর হত্যাকাণ্ডের পুনঃতদন্ত হবে। পুনঃতদন্ত হতেই হবে এবং অবশ্যই হতে হবে। দ্রুতই তদন্ত টিম করা হবে। তিনি আরো বলেন, ক্রিমিনালদের (অপরাধী) কোনো অবস্থাতেই ছাড় দেওয়া যাবে না। সে যত প্রতাপশালীই হোক না কেন। আগে অনেক সময় অনেক প্রতাপশালী অপরাধী ছাড় পেয়ে যেত। সেটা আর হতে দেওয়া যাবে না।

উল্লেখ্য, ২০০৯ সালের ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারি বিদ্রোহের নামে তৎকালীন বিডিআরের সদর দপ্তর পিলখানায় নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়। এতে ৫৭ সেনা কর্মকর্তাসহ ৭৪ জন প্রাণ হারান। এ ঘটনায় দায়ের করা হত্যা মামলার রায়ের (২০১৩ সালে দেওয়া) বিরুদ্ধে আপিল গ্রহণ করে ২০১৭ সালে বিচারপতি মো. শওকত হোসেনের নেতৃত্বাধীন তিন বিচারপতির সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের বিশেষ বেঞ্চ ১৫২ জনের পরিবর্তে ১৩৯ জওয়ানকে মৃত্যুদণ্ড দেয়। এছাড়া যাবজ্জীবন দেওয়া হয় ১৮৫ জনকে। বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেওয়া হয় আরো ২০০ জনকে। খালাস পান ৪৫ জন।

এদিকে রায় ঘোষণার পর থেকেই বিভিন্ন পক্ষ থেকে এই রায় বাতিল করে পুনঃতদন্তের দাবি ওঠে। গত ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার সরকারের পতনের পর নিহতদের পরিবারের পক্ষ থেকে বারবার দাবি ওঠে এই হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে মাস্টারমাইন্ডদের খুঁজে বের করে বিচারের মুখোমুখি করা। অপরদিকে সাজাপ্রাপ্ত বিডিআর জওয়ানদের পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয় যে কোনো ধরনের তদন্ত ছাড়াই তড়িঘড়ি করে রায় ঘোষণা করা হয়েছে। নিরপরাধ জওয়ানদের সাজা দেওয়া হয়েছে।

রায় বাতিল করেই পুনঃতদন্ত করতে হবে: বিডিআর হত্যাকাণ্ডের মামলার পুনঃতদন্ত সম্পর্কে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার এমন বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে আসামি পক্ষের অন্যতম কৌঁসুলি অ্যাডভোকেট এম আমিনুল ইসলামের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এখন মামলাটির অধিকতর তদন্ত করতে গেলে আপিল বিভাগ থেকে আদেশ আসতে হবে। এজন্য রাষ্ট্রপক্ষ থেকে মামলাটির অধিকতর তদন্ত চেয়ে আবেদন দাখিল করতে হবে। যখন আপিল বিভাগে মামলাটির শুনানি শুরু হবে তখন অধিকতর তদন্তের আবেদনটি উপস্থাপন করতে হবে। সবকিছু বিবেচনা করে যদি আদালত মনে করে মামলাটি অধিকতর তদন্তে যেতে পারে তখনই সেটা সম্ভব। আর অধিকতর তদন্তে যেতে হলে হাইকোর্ট যে রায় দিয়েছে তা আইনি প্রক্রিয়ায় বাতিল হতে হবে।

স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা আরো যা বললেন: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আগের থেকে একটু উন্নতি হয়েছে, কিন্তু আরো উন্নতি হওয়া দরকার। তবে পরিস্থিতি আস্তে আস্তে উন্নতি হচ্ছে। সামনের দিকে আরো উন্নতি হবে। তিনি বলেন, একটি সুশৃঙ্খল ও প্রশিক্ষিত বাহিনীর সদস্য হিসেবে বিজিবি সদস্যদের চেইন অব কমান্ড মেনে কাজ করতে হবে। ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার বেআইনি আদেশ মানা যাবে না। আদেশের ক্ষেত্রে তা বৈধ ও আইনসংগত কিনা তা বিবেক-বুদ্ধি দিয়ে বিবেচনা করতে হবে। এ সময় তিনি বিজিবিকে সীমান্তে সর্বোচ্চ সতর্কতা ও নজরদারি বজায় রাখার কথা বলেন। জাতীয় স্বার্থ বজায় রেখে চোরাচালান প্রতিরোধে কঠোর অবস্থান নিতে হবে বলে জানান।

রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ ঠেকাতে বিজিবির অবস্থান জানতে চাইলে তিনি বলেন, অনুপ্রবেশ নিষেধ। কিন্তু মানবিক একটা দিক রয়েছে। কিছু ঢুকছে আমি অস্বীকার করি না। তাদের আবার পাঠায় দিব। এর আগে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা সকালে রাজধানী ঢাকার পিলখানাস্থ বিজিবি সদর দপ্তরে আসেন। সকাল ৯টায় পিলখানাস্থ সীমান্ত সম্মেলন কেন্দ্রে বিজিবির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং বাহিনীর সকল পর্যায়ের সদস্যদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। এ সময় বিজিবি মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকী উপস্থিত ছিলেন।

ট্যাগ:
রিপোর্টার সম্পর্কে দেখুন

জনপ্রিয় খবর

বিডিআর হত্যাকাণ্ডের পুনঃতদন্তের উদ্যোগ

প্রকাশের সময় : ০৮:৩৯:১৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ৪ নভেম্বর ২০২৪

পুনঃতদন্ত হতেই হবে, দ্রুত তদন্ত টিম গঠন করা হবে :স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা



অনলাইন ডেস্ক: অবশেষে দেশের বহুল আলোচিত বিডিআর হত্যাকাণ্ডের পুনঃতদন্তের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ জন্য দ্রুত তদন্ত টিম গঠন করতে যাচ্ছে। এরপরই পুনঃতদন্ত শুরু হবে। গতকাল সোমবার রাজধানীর পিলখানাস্থ বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সদর দপ্তর পরিদর্শন শেষে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে এমনটাই বলেছেন।

স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, বিডিআর হত্যাকাণ্ডের পুনঃতদন্ত হবে। পুনঃতদন্ত হতেই হবে এবং অবশ্যই হতে হবে। দ্রুতই তদন্ত টিম করা হবে। তিনি আরো বলেন, ক্রিমিনালদের (অপরাধী) কোনো অবস্থাতেই ছাড় দেওয়া যাবে না। সে যত প্রতাপশালীই হোক না কেন। আগে অনেক সময় অনেক প্রতাপশালী অপরাধী ছাড় পেয়ে যেত। সেটা আর হতে দেওয়া যাবে না।

উল্লেখ্য, ২০০৯ সালের ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারি বিদ্রোহের নামে তৎকালীন বিডিআরের সদর দপ্তর পিলখানায় নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়। এতে ৫৭ সেনা কর্মকর্তাসহ ৭৪ জন প্রাণ হারান। এ ঘটনায় দায়ের করা হত্যা মামলার রায়ের (২০১৩ সালে দেওয়া) বিরুদ্ধে আপিল গ্রহণ করে ২০১৭ সালে বিচারপতি মো. শওকত হোসেনের নেতৃত্বাধীন তিন বিচারপতির সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের বিশেষ বেঞ্চ ১৫২ জনের পরিবর্তে ১৩৯ জওয়ানকে মৃত্যুদণ্ড দেয়। এছাড়া যাবজ্জীবন দেওয়া হয় ১৮৫ জনকে। বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেওয়া হয় আরো ২০০ জনকে। খালাস পান ৪৫ জন।

এদিকে রায় ঘোষণার পর থেকেই বিভিন্ন পক্ষ থেকে এই রায় বাতিল করে পুনঃতদন্তের দাবি ওঠে। গত ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার সরকারের পতনের পর নিহতদের পরিবারের পক্ষ থেকে বারবার দাবি ওঠে এই হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে মাস্টারমাইন্ডদের খুঁজে বের করে বিচারের মুখোমুখি করা। অপরদিকে সাজাপ্রাপ্ত বিডিআর জওয়ানদের পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয় যে কোনো ধরনের তদন্ত ছাড়াই তড়িঘড়ি করে রায় ঘোষণা করা হয়েছে। নিরপরাধ জওয়ানদের সাজা দেওয়া হয়েছে।

রায় বাতিল করেই পুনঃতদন্ত করতে হবে: বিডিআর হত্যাকাণ্ডের মামলার পুনঃতদন্ত সম্পর্কে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার এমন বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে আসামি পক্ষের অন্যতম কৌঁসুলি অ্যাডভোকেট এম আমিনুল ইসলামের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এখন মামলাটির অধিকতর তদন্ত করতে গেলে আপিল বিভাগ থেকে আদেশ আসতে হবে। এজন্য রাষ্ট্রপক্ষ থেকে মামলাটির অধিকতর তদন্ত চেয়ে আবেদন দাখিল করতে হবে। যখন আপিল বিভাগে মামলাটির শুনানি শুরু হবে তখন অধিকতর তদন্তের আবেদনটি উপস্থাপন করতে হবে। সবকিছু বিবেচনা করে যদি আদালত মনে করে মামলাটি অধিকতর তদন্তে যেতে পারে তখনই সেটা সম্ভব। আর অধিকতর তদন্তে যেতে হলে হাইকোর্ট যে রায় দিয়েছে তা আইনি প্রক্রিয়ায় বাতিল হতে হবে।

স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা আরো যা বললেন: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আগের থেকে একটু উন্নতি হয়েছে, কিন্তু আরো উন্নতি হওয়া দরকার। তবে পরিস্থিতি আস্তে আস্তে উন্নতি হচ্ছে। সামনের দিকে আরো উন্নতি হবে। তিনি বলেন, একটি সুশৃঙ্খল ও প্রশিক্ষিত বাহিনীর সদস্য হিসেবে বিজিবি সদস্যদের চেইন অব কমান্ড মেনে কাজ করতে হবে। ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার বেআইনি আদেশ মানা যাবে না। আদেশের ক্ষেত্রে তা বৈধ ও আইনসংগত কিনা তা বিবেক-বুদ্ধি দিয়ে বিবেচনা করতে হবে। এ সময় তিনি বিজিবিকে সীমান্তে সর্বোচ্চ সতর্কতা ও নজরদারি বজায় রাখার কথা বলেন। জাতীয় স্বার্থ বজায় রেখে চোরাচালান প্রতিরোধে কঠোর অবস্থান নিতে হবে বলে জানান।

রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ ঠেকাতে বিজিবির অবস্থান জানতে চাইলে তিনি বলেন, অনুপ্রবেশ নিষেধ। কিন্তু মানবিক একটা দিক রয়েছে। কিছু ঢুকছে আমি অস্বীকার করি না। তাদের আবার পাঠায় দিব। এর আগে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা সকালে রাজধানী ঢাকার পিলখানাস্থ বিজিবি সদর দপ্তরে আসেন। সকাল ৯টায় পিলখানাস্থ সীমান্ত সম্মেলন কেন্দ্রে বিজিবির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং বাহিনীর সকল পর্যায়ের সদস্যদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। এ সময় বিজিবি মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকী উপস্থিত ছিলেন।