
এই ছোট্ট জীবনে চাওয়ার থেকেও অনেক অনেক বেশি কিছু পেয়েছি। কিন্তু চাহিদা অনুযায়ী আমি কাউকে তেমন কিছু দিতে পারিনি। কারণ কউকে কিছু দেবার মতো কোনো যোগ্যতাই আমার নেই। অনেকের কাছে থেকে অফুরন্ত ভালোবাসা পেয়েছি, কিন্তু আমি তেমন করে ভালোবাসতে পারিনি কাউকে। কিভাবে ভালোবাসতে হয় এবং সম্পর্ক টিকিয়ে রাখতে হয়, সে আমি জানি না, আসলে এসব ব্যপারে আমি সব সময়ই উদাসীন। আমি অন্যের জন্য একজন যন্ত্রণাময় প্যারাদায়ক মানুষ হিসাবেই গণ্য। হয়তো স্রষ্টা নিজেও আমাকে নিয়ে যন্ত্রণায় বিরক্ত হয়ে আছেন। হাতের মুঠোয় পেলে খুব করে শাস্তি দেবেন। কেমন করে যেনো, অনুভূতিরা মৃত হয়ে গেছে, কখন কি করা উচিৎ বুঝে উঠতে পারি না। মনোযোগ দিয়ে কারো কথা শুনি না, কথা কম বলি, নিজের মনের ইচ্ছে মতো ঘুমাই, ইচ্ছে মতো জেগে থাকি, আমার ব্যবহারে হয়তো সকলে কষ্ট পায়। আমার দ্বারা সৃষ্টির কোনো কল্যান হয় না। তবে কেনো বেঁচে আছি, কেনো তিনি এখনো বাঁচিয়ে রেখেছেন, সেটাই সময়ে সময়ে ভাবি। স্রষ্টা যে সৌন্দর্য দিয়ে পাঠিয়েছেন, সেসব ঢেকে রাখি উদাসীন মেঘের আড়ালে। গ্রহণ কালে যেমন চাঁদ ঢেকে যায় মেঘের আড়ালে, তেমনি নিজেকে ঢেকে রাখি অভিমানী কালো ছায়ায়। হদয়’টা নরম কাদামাটির মতো হলেও পরিবেশের তপ্ত রোদে পুড়ে পুড়ে, পাথরে রূপান্তরিত হয়ে যায় কখনো কখনো। কেউ কেউ পাগল কিংবা ক্ষ্যাপাটে বলে আখ্যা দেয়। বোকাও বলে কেউ কেউ, তবুও মেনে নেই, নীরব থেকে। কখনো রাগ ধরে রাখি না, তবে অভিমান আগুনে নিজেকে পুড়িয়ে অঙ্গার করি। সময়ে সময়ে আদর ভালোবাসার কাঙাল হই। তখন প্রকৃতির সৌন্দর্যের কাছে ছুটে যেতে মন চায়, সবুজ পাতাদের ছুঁয়ে দেখতে মন চায়। আঁকাবাঁকা মেঠো পথ ধরে পাহাড়ে উঠে আকাশ ছুঁতে মন চায়। বিশাল জলরাশীর জলে পা ভিজাতে ইচ্ছে হয়। কখনো আকাশের কালো মেঘ দেখে দেখে কাঁদতে ভালো লাগে, কখনো নীল সাদা মেঘ দেখে হাসতে ভালো লাগে। কখনো বৃষ্টি মুখর দিনে আলতা পায়ে নূপুর পড়ে কারো হাত ধরে ভিজে ভিজে নৃত্য করতে ভালো লাগে। কখনো নিঃসঙ্গ মনে বেলকনিতে দাঁড়িয়ে হাত বাড়িয়ে বৃষ্টি ছুঁয়ে ছুঁয়ে কান্নার জল মেশাতে ভালো লাগে। তবে বাস্তবে কিছুই পাই না, সবকিছুই ধরা ছোঁয়ার বাহিরে। তাই কল্পনার সাগরে ভেসে ভেসে সব কিছু চেখেমেখে উপলব্ধি করি। এমন নিঃস্বার্থ চাহিদা পূরণ একমাত্র কল্পনাই দিতে পারে। অবাস্তব ভাবনার এমন মানুষকেই তো পাগল বলা সাজে। পাগল হতেও ভালো লাগে। এমন পাগল কি কারো বন্ধু বা প্রিয়জন হতে পারে। কখনোই না, কেউ চাইবে না পাগলের সাথে পাগলামী করতে, বরং দূরত্ব বজায় রেখে নিজ ঝঞ্ঝাট থাকতে চাইবে।
কলমে – রূপা বাড়ৈ
প্রতিদিনের আলোচিত কন্ঠ: 










