০৭:৪৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৪ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সাব রেজিস্ট্রার শুধু আসে আর যায়, সবুজ ফজর থেকে যায় স্বমহিমায়

নিজস্ব প্রতিবেদক, হেড অফিস:

রাজধানীর মিরপুর-১ সাব রেজিস্ট্রার অফিসে সাব রেজিস্ট্রার যেনো কলের পুতুল, সাবরেজিস্টার এর কথিত সহকারী সবুজ ও উমেদার ফজরের কথায় এখানে শেষ কথা। এখানে সাব রেজিস্ট্রার এর নামে সমস্ত ঘুষের টাকা উত্তোলন হয় সবুজ ফজরের হাত ধরে। সেই টাকায় আবার দিনশেষে সবুজ ফজর মিডিয়া ও অফিস ম্যানেজের নামে অর্ধেক নিজের কাছে রেখে দিয়ে বাকী অর্ধেক তুলে দেন সাব রেজিস্ট্রার এর ব্যাগে।

এ অফিসে সবুজ ফজরই সর্বেসর্বা। তাদের গ্রিন সিগন্যাল বা নির্দেশ ছাড়া মেলেনা সেবা, নড়েনা ফাইল। এ অফিসে ইতোমধ্যে সাতজন সাব রেজিস্ট্রার বদলি হলেও সবুজ ফরজ জুটি টিকে আছে স্বমহিমায়।

মিরপুর-১ সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে ঘুষ ছাড়া কোনো জমিই রেজিস্ট্রি হয় না বলে গুরুতর অভিযোগ পাওয়া গেছে। “কাগজপত্রে সমস্যা আছে” এ কথা বলে জমি ক্রেতা-বিক্রেতার কাছে দাবি করা হয় মোটা অংকের ঘুষ। না দিলে জমি রেজিস্ট্রি দেওয়া হয় বন্ধ করে। অফিসের কেরানী থেকে শুরু করে সাব রেজিস্ট্রার তৌফিক সালাউদ্দীন সবাইকে ঘুষ দিতে সুকৌশলে বাধ্য করা হয়।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সরকারি ‘ফি’ এর বাইরে কথিত সহকারী সবুজ ও উমেদার ফজরের হাত দিয়ে সু কৌশলে ক্রেতা-বিক্রেতার কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করা হয়।

ফ্রেশ জমিকে ডোবা, নালা, পতিত ও ধানী জমি বলে মোটা অংকের নজরানা নিয়ে জমি রেজিস্ট্রি বেসরকা টেন্ডার খুলে বসে সবুজ ফজর জুটি।

সবমিলে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির নিরাপদ আস্তানায় পরিণত হয়েছে এই সাব রেজিস্ট্রি অফিস।

ভুক্তভোগীরা জানায়, বর্তমান সাব-রেজিস্ট্রার তৌফিক সালাউদ্দীন এখান কলের পতুল। নেপথ্যে কলকাঠি নাড়ে সবুজ ও ফজর। এই অফিসে যোগদান করেই সাব রেজিস্ট্রার সবুজ ফজরের কেরামতিতে অবৈধ উপায়ে দু’হাতে অর্থ উপার্জনে বেপরোয়া হয়ে উঠেন।

সূত্র জানায়, সাব রেজিস্ট্রার প্রতিমাসে ২৫-৩০ লাখ টাকা অবৈধ উপায়ে উপার্জন করেন।

নির্ভরযোগ্য সূত্রে প্রকাশ, সাব রেজিস্ট্রার কোন কোন দিন ৫ লাখ টাকাও অবৈধ পথে উপার্জন করেন।

এই টাকার অর্ধেক অংশ দিয়ে সবুজ ফজরের মাধ্যমে সবাইকে ম্যানেজ করা হয়।

অভিযোগ রয়েছে, সাব রেজিস্ট্রার এবং তাঁর দুজন কথিত সহকারী সবুজ ও ফজর কাউকেই পরোয়া করেন না। এই ত্রিরত্ন দাম্ভিকতার সুরে বলেন, তাদের বিরুদ্ধে কেউ কোনো এ্যাকশন নিতে পারবেনা। কারণ তারা সব জায়গাতেই সিস্টেম করে ম্যানেজ করে চলেন।

জমি রেজিস্ট্রেশনের কাগজপত্র ঠিকঠাক থাকার পরও দলিলপ্রতি নির্ধারিত হারে সবুজ ফজরের মাধ্যমে সাব রেজিস্ট্রারকে মোটা অংকের ঘুষ দিতে হয়।

এ অফিসে দলিলপ্রতি নির্ধারিত হারে উৎকোচ দেয়াটা নিয়মে পরিণত হয়েছে।
সচেতন এলাকাবাসীর দাবি, প্রতিদিন অফিস সময়ের পরে ঘুষ/উৎকোচের টাকা নিয়ে বাসায় যাওয়ার সময় দুর্নীতি দমন কমিশন অভিযান পরিচালনা করলে সাব রেজিস্ট্রার ও তার দুজন কথিত সহকারী সবুজ ফজরকে হাতেনাতে ঘুষের টাকাসহ আটক করা সম্ভব।

সচেতন মহলের অভিমত, দুর্নীতি দমন কমিশন গোপনে অভিযান পরিচালনা করলে অবশ্যই দুর্নীতিবাজ সাব রেজিস্ট্রার ও তার কথিত সহকারীর কোটি কোটি টাকার বেপরোয়া দুর্নীতির চিত্র বেরিয়ে আসবে। তাদের অনৈতিক উৎকোচ গ্রহণের কারণে রেজিস্ট্রেশন বিভাগের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হওয়ার পাশাপাশি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ভাবমূর্তিও ক্ষুণ্ন হচ্ছে।

সাব রেজিস্ট্রারের পক্ষে সহকারী সবুজ ও ফজর জেলা রেজিস্ট্রার, আইজিআর অফিস ম্যানেজ করে এইসব বেপরোয়া কর্মকাণ্ড চালান বলে অভিযোগ। এ ব্যাপারে আইন মন্ত্রণালয়, দুর্নীতি দমন কমিশন ও আইজিআর মহোদয়ের কঠোর হস্তক্ষেপ কাম্য।

ট্যাগ:
রিপোর্টার সম্পর্কে দেখুন

জনপ্রিয় খবর

সাব রেজিস্ট্রার শুধু আসে আর যায়, সবুজ ফজর থেকে যায় স্বমহিমায়

প্রকাশের সময় : ০৯:১৬:৪৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২১ অক্টোবর ২০২৪

নিজস্ব প্রতিবেদক, হেড অফিস:

রাজধানীর মিরপুর-১ সাব রেজিস্ট্রার অফিসে সাব রেজিস্ট্রার যেনো কলের পুতুল, সাবরেজিস্টার এর কথিত সহকারী সবুজ ও উমেদার ফজরের কথায় এখানে শেষ কথা। এখানে সাব রেজিস্ট্রার এর নামে সমস্ত ঘুষের টাকা উত্তোলন হয় সবুজ ফজরের হাত ধরে। সেই টাকায় আবার দিনশেষে সবুজ ফজর মিডিয়া ও অফিস ম্যানেজের নামে অর্ধেক নিজের কাছে রেখে দিয়ে বাকী অর্ধেক তুলে দেন সাব রেজিস্ট্রার এর ব্যাগে।

এ অফিসে সবুজ ফজরই সর্বেসর্বা। তাদের গ্রিন সিগন্যাল বা নির্দেশ ছাড়া মেলেনা সেবা, নড়েনা ফাইল। এ অফিসে ইতোমধ্যে সাতজন সাব রেজিস্ট্রার বদলি হলেও সবুজ ফরজ জুটি টিকে আছে স্বমহিমায়।

মিরপুর-১ সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে ঘুষ ছাড়া কোনো জমিই রেজিস্ট্রি হয় না বলে গুরুতর অভিযোগ পাওয়া গেছে। “কাগজপত্রে সমস্যা আছে” এ কথা বলে জমি ক্রেতা-বিক্রেতার কাছে দাবি করা হয় মোটা অংকের ঘুষ। না দিলে জমি রেজিস্ট্রি দেওয়া হয় বন্ধ করে। অফিসের কেরানী থেকে শুরু করে সাব রেজিস্ট্রার তৌফিক সালাউদ্দীন সবাইকে ঘুষ দিতে সুকৌশলে বাধ্য করা হয়।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সরকারি ‘ফি’ এর বাইরে কথিত সহকারী সবুজ ও উমেদার ফজরের হাত দিয়ে সু কৌশলে ক্রেতা-বিক্রেতার কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করা হয়।

ফ্রেশ জমিকে ডোবা, নালা, পতিত ও ধানী জমি বলে মোটা অংকের নজরানা নিয়ে জমি রেজিস্ট্রি বেসরকা টেন্ডার খুলে বসে সবুজ ফজর জুটি।

সবমিলে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির নিরাপদ আস্তানায় পরিণত হয়েছে এই সাব রেজিস্ট্রি অফিস।

ভুক্তভোগীরা জানায়, বর্তমান সাব-রেজিস্ট্রার তৌফিক সালাউদ্দীন এখান কলের পতুল। নেপথ্যে কলকাঠি নাড়ে সবুজ ও ফজর। এই অফিসে যোগদান করেই সাব রেজিস্ট্রার সবুজ ফজরের কেরামতিতে অবৈধ উপায়ে দু’হাতে অর্থ উপার্জনে বেপরোয়া হয়ে উঠেন।

সূত্র জানায়, সাব রেজিস্ট্রার প্রতিমাসে ২৫-৩০ লাখ টাকা অবৈধ উপায়ে উপার্জন করেন।

নির্ভরযোগ্য সূত্রে প্রকাশ, সাব রেজিস্ট্রার কোন কোন দিন ৫ লাখ টাকাও অবৈধ পথে উপার্জন করেন।

এই টাকার অর্ধেক অংশ দিয়ে সবুজ ফজরের মাধ্যমে সবাইকে ম্যানেজ করা হয়।

অভিযোগ রয়েছে, সাব রেজিস্ট্রার এবং তাঁর দুজন কথিত সহকারী সবুজ ও ফজর কাউকেই পরোয়া করেন না। এই ত্রিরত্ন দাম্ভিকতার সুরে বলেন, তাদের বিরুদ্ধে কেউ কোনো এ্যাকশন নিতে পারবেনা। কারণ তারা সব জায়গাতেই সিস্টেম করে ম্যানেজ করে চলেন।

জমি রেজিস্ট্রেশনের কাগজপত্র ঠিকঠাক থাকার পরও দলিলপ্রতি নির্ধারিত হারে সবুজ ফজরের মাধ্যমে সাব রেজিস্ট্রারকে মোটা অংকের ঘুষ দিতে হয়।

এ অফিসে দলিলপ্রতি নির্ধারিত হারে উৎকোচ দেয়াটা নিয়মে পরিণত হয়েছে।
সচেতন এলাকাবাসীর দাবি, প্রতিদিন অফিস সময়ের পরে ঘুষ/উৎকোচের টাকা নিয়ে বাসায় যাওয়ার সময় দুর্নীতি দমন কমিশন অভিযান পরিচালনা করলে সাব রেজিস্ট্রার ও তার দুজন কথিত সহকারী সবুজ ফজরকে হাতেনাতে ঘুষের টাকাসহ আটক করা সম্ভব।

সচেতন মহলের অভিমত, দুর্নীতি দমন কমিশন গোপনে অভিযান পরিচালনা করলে অবশ্যই দুর্নীতিবাজ সাব রেজিস্ট্রার ও তার কথিত সহকারীর কোটি কোটি টাকার বেপরোয়া দুর্নীতির চিত্র বেরিয়ে আসবে। তাদের অনৈতিক উৎকোচ গ্রহণের কারণে রেজিস্ট্রেশন বিভাগের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হওয়ার পাশাপাশি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ভাবমূর্তিও ক্ষুণ্ন হচ্ছে।

সাব রেজিস্ট্রারের পক্ষে সহকারী সবুজ ও ফজর জেলা রেজিস্ট্রার, আইজিআর অফিস ম্যানেজ করে এইসব বেপরোয়া কর্মকাণ্ড চালান বলে অভিযোগ। এ ব্যাপারে আইন মন্ত্রণালয়, দুর্নীতি দমন কমিশন ও আইজিআর মহোদয়ের কঠোর হস্তক্ষেপ কাম্য।